📌 গাজায় ইসরায়েলি হামলায় পরিবারের সব সদস্য হারিয়ে একাকী জীবনযাপনে বাধ্য হওয়া হাজারো শিশুর মধ্যে অপরাধবোধ ও যন্ত্রণা প্রকট হয়ে উঠছে। জানা আল-মাতুক নামের এক কিশোর তার পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছে
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় পরিবারের সব সদস্য হারিয়ে একাকী জীবনযাপনে বাধ্য হওয়া হাজারো শিশুর মধ্যে অপরাধবোধ ও যন্ত্রণা প্রকট হয়ে উঠছে। জানা আল-মাতুক নামের এক কিশোর তার পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে রয়েছে জানা আল-মাতুকের পরিবারের সদস্যরা
- 📌 জানা আল-মাতুক (১৩ বছর) তার পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে বেঁচে আছে
- 📌 ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বরে চালানো ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা আহমেদ, মা হেবা, যমজ বোন সাজা ও দুই ভাই নিহত হন
- 📌 গাজায় যুদ্ধের কারণে ৬৮ হাজারের বেশি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক তাদের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হয়ে পড়েছে
- 📌 মনোবিজ্ঞানী সিরিন আল-আবসি জানান, বেঁচে যাওয়া শিশুরা নিজেদের অপরাধী ভাবছে
📰 বিস্তারিত
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় পরিবারের সব সদস্য হারিয়ে একাকী জীবনযাপনে বাধ্য হওয়া হাজারো শিশুর মধ্যে অপরাধবোধ ও যন্ত্রণা প্রকট হয়ে উঠছে। জানা আল-মাতুক নামের এক কিশোর তার পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছে। জানা আল-মাতুক প্রতিদিন সকালে একাই ঘুম থেকে ওঠে, নিজের নাশতা তৈরি করে এবং স্কুলের জন্য প্রস্তুত হয়। কিছুদিন আগেও এসব কাজ তার মা করে দিতেন। কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় তার পরিবারের সবাই নিহত হওয়ার পর থেকে তাকে সবকিছু নিজেকেই করতে হচ্ছে।
জানা আল-মাতুক জানায়, ‘মা আমাদের ঘুম থেকে জাগাতেন, নাশতা বানিয়ে দিতেন, চুল আঁচড়ে দিতেন। এখন আমাকে সবকিছু নিজেকেই করতে হয়।’ কারণ, ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বরে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় তার পরিবারের সবাই নিহত হওয়ার পর একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে বেঁচে আছে সে। গাজা উপত্যকার জাবালিয়ায় এক আবাসিক ভবনে চালানো ওই ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন তার বাবা আহমেদ, মা হেবা, যমজ বোন সাজা এবং ছোট দুই ভাই, আট বছর বয়সী হোসাম ও চার বছর বয়সী মোহাম্মদ।
ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে দুই বছরে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা অন্য আত্মীয়স্বজন হারিয়ে একা হয়ে পড়া হাজারো শিশুর একজন জানা। গাজার ২২ লাখ মানুষের বেশির ভাগই বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। হারিয়েছে নিজেদের ঘরবাড়ি, স্কুল এবং জীবনের সেই স্বাভাবিক রুটিন, যা একসময় তাদের জীবনকে একটি কাঠামো দিত।
জানার বড় পরিবারের আরও ৩৫ সদস্য—যাদের মধ্যে চাচা-মামা ও চাচাতো–ফুপাতো ও খালাতো–মামাতো ভাইবোনরাও ছিলেন—ওই হামলায় নিহত হন। সেদিন রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ায় জানা রাস্তার ওপারে তার দাদির বাড়িতে ঘুমিয়েছিল। এ কারণেই সে বেঁচে যায়। ভোর হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বিস্ফোরণে যখন পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে, তখন সে দৌড়ে বাইরে যায়। জানা স্মরণ করে বলে, ‘আমাদের বাড়িটাই আর ছিল না। ধুলোয় মিশে গিয়েছিল। আমি বারবার মা-বাবাকে ডাকছিলাম। ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে তাদের ডাকছিলাম। কেউ সাড়া দিচ্ছিল না।’
‘আমার মনে হতো, আমি যদি তাদের সঙ্গে থাকতাম, ভালো হতো। ভাবতাম, আমি যদি তাদের সঙ্গে মারা যেতাম, তাহলে হয়তো শান্তি পেতাম।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা উপত্যকা, জাবালিয়া
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: জানা আল-মাতুক (১৩ বছর), সিরিন আল-আবসি (২৯ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৩ হাজার (নিহত), ২২ লাখ (গাজার জনসংখ্যা), ৬৮ হাজার (একাকী জীবিত সদস্য), ৩৫ জন (জানার পরিবারের সদস্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!