📌 রংপুরে মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন স্থানে ছয়জন নিহত হন। একই পরিবারের চার সদস্য থেকে শুরু করে একাধিক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে
রংপুর নগরী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন স্থানে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে গত রোববার রাতে হারাগাছ থানা এলাকায়। এর আগে নগরের তাজহাট ও মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের হারাগাছ থানার চরচতুরা গ্রামে আবু সিদ্দিক (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
- 📌 মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্য—গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী—কে হত্যা করা হয়।
- 📌 তাজহাট আনসারি মোড়ে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।
- 📌 হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটে ১৩ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে।
- 📌 পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
📰 বিস্তারিত
রংপুরের হারাগাছ থানার চরচতুরা গ্রামের একটি নির্জন সড়ক থেকে গত রোববার রাতে আবু সিদ্দিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লীমারি হকের বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি রোববার সন্ধ্যার পর পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট সদরের মিলন বাজারে যান। রাত ৯টার দিকে তাঁর হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান জানান, নিহতের মুখ, ঘাড় ও গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে।
এর আগে, ২২ আগস্ট গভীর রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে পুলিশ জানায়, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই তরুণ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করেন এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হয়। ঘটনাটিকে ডাকাতির রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে ছড়িয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের সূচনা ঘটে গত ১৩ আগস্ট সকালে। রংপুর নগরের তাজহাট আনসারি মোড় এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজের ভেতর থেকে আবদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাইরে থেকে শাটারে তালা দেওয়া গ্যারেজের ভেতর থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
"মাত্র দশ দিনের মধ্যে তিনটি ভিন্ন স্থানে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডগুলো স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। তদন্ত চলছে, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর নগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু সিদ্দিক, আবদুর রহমান, গণপতি চক্রবর্তী পরিবার, মুগ্ধ দাস, সিদ্ধার্থ দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ জন নিহত, ১০ দিনের ব্যবধান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!