📌 শেরপুরের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বুলবুলি জুয়েলার্সে পৈত্রিক সম্পত্তির দাবিতে ভাইবোনদের তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হলেও আগামী শুক্রবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়
শেরপুর সদর থানার অধীন নয়ানিবাজার এলাকায় অবস্থিত স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স বুলবুলি জুয়েলার্সে পৈত্রিক সম্পত্তির দাবিতে ভাইবোনদের তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটে ২৩ আগস্ট রোববার সকালে। পরে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেরপুরের নয়ানিবাজার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স বুলবুলি জুয়েলার্সে ভাইবোনদের তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে
- 📌 ঘটনার সময়কাল: ২৩ আগস্ট রোববার সকাল
- 📌 তালা দেওয়ার দাবি: পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার
- 📌 তালা খোলার দায়িত্ব পালন করে শেরপুর সদর থানা পুলিশ
- 📌 আগামী শুক্রবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার সিদ্ধান্ত
📰 বিস্তারিত
শেরপুর সদর থানার নয়ানিবাজার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স বুলবুলি জুয়েলার্সের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইয়াকুব আলীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ইয়াকুব আলীর ছেলে আব্দুল জলিল তার নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি লিখে নেওয়ায় বঞ্চিত ভাইবোনরা প্রতিবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির তালা ঝুলিয়ে দেন।
৮ ভাইবোনের মধ্যে বঞ্চিত ৭ ভাইবোন পক্ষে চার ভাইবোন তালা দেওয়ার ঘটনায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে শারমিন সুলতানা বুলবুলি কয়েক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। অসুস্থ এক বোন ও ঢাকায় কর্মরত এক ভাই ব্যতীত বাকি চার ভাইবোন মিলে এই প্রতিবাদ করেন। তারা জানান, পরিবারের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও সম্পত্তির হিসেব নিয়ে সমাধান না হওয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন।
বুলবুলি জুয়েলার্সের প্রকৃত স্বত্বাধিকারী আব্দুল মালেক জানান, তাদের মা-বাবা মৃত্যুবরণ করার পর বড় ভাই আব্দুল জলিল তাদের অগোচরে সম্পত্তি নিজ নামে লিখে নেন। ফলে তারা কোনো ওয়ারিশ পাননি। আব্দুল জলিল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাইবোনদের ওয়ারিশের সম্পত্তি এখনো রয়েছে এবং তারা তার সুনাম নষ্ট করার জন্য এই কাজ করেছে।
"আমার মা এবং বাবা মারা যাবার পর আমার বড় ভাই আব্দুল জলিল বাবার নামে দোকানটি আমাদের অগোচরে তার নামে লিখে নেয়। এছাড়া আমাদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ও বাড়িঘর সবকিছু তার নামে লিখে নেওয়ায় আমরা কোন ওয়ারিশ পাইনি।"
এ বিষয়ে ইয়াকুব আলীর ছোট ভাই ইসমাইল হোসেন বলেন, তার ভাইয়ের ছেলেমেয়েদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। আব্দুল জলিলের কাছে অন্যান্য ভাইবোনদের ওয়ারিশের জমির হিসাব চাওয়া হলেও তিনি তা দেননি। ফলে আজকের এই ঘটনা ঘটেছে।
"আমার ভাইয়ের ছেলে মেয়েদের মধ্যে জমি জমা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। ভাইয়ের বড় ছেলে আব্দুল জলিল এর কাছে অন্যান্য ভাই-বোনরা দীর্ঘদিন থেকে ওয়ারিশের জমি-জমার হিসাব চাইলে সে দিচ্ছিল না। সে কারণে আজকের এই ঘটনা ঘটেছে।"
ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা শেরপুর সদর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, ভাইবোনদের সম্পত্তির ওয়ারিশ নিয়ে বিরোধ মেটাতে আগামী শুক্রবার সদর থানায় সালিশ বৈঠক ডাকা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈঠকে বিরোধের সমাধান হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নয়ানিবাজার, শেরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল জলিল, আব্দুল মালেক, ইসমাইল হোসেন, সাইফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ ভাইবোন, ৭ ভাইবোন, ৪ ভাইবোন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!