📌 শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন ক্ষুধার্ত মানুষকে এক বেলা খাবার সরবরাহ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নৃ ফাউন্ডেশন। করোনাকালীন শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন বছরের ৩৬৫ দিনই চলছে
শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে প্রতিদিন দুপুর গড়ালেই ভিড় জমে। বৃদ্ধ, দিনমজুর, পথশিশু ও ভাসমান মানুষদের নিয়ে গঠিত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন মানুষ অপেক্ষায় থাকেন এক বেলা খাবারের জন্য। বেলা একটা থেকে দেড়টার মধ্যেই তাঁরা সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন। ঘড়ির কাঁটা দুইটা ছুঁতেই একটি ভ্যান এসে থামে, আর শুরু হয় গরম ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম বা মাছ-মাংস পরিবেশন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার সরবরাহ করছে নৃ ফাউন্ডেশন
- 📌 প্রতিদিন বেলা দুইটায় শুরু হয় খাবার পরিবেশন, যেখানে গরম ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার দেওয়া হয়
- 📌 সংগঠনটির কার্যক্রম বছরের ৩৬৫ দিনই চলে, যেখানে রমজান মাসে ইফতার আয়োজনসহ বিশেষ অনুষ্ঠানে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়
- 📌 করোনাকালীন ২০২০ সালের ৮ আগস্ট যাত্রা শুরু করা নৃ ফাউন্ডেশন এখন ২১ সদস্যের একটি কমিটি দ্বারা পরিচালিত
- 📌 সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক বলেন, ‘কেউ যেন ক্ষুধার্ত না থাকে—এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের যাত্রা।’
📰 বিস্তারিত
শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের পাশে গাছতলায় প্রতিদিন দুপুর গড়ালেই ভিড় জমে। কেউ বৃদ্ধ, কেউ দিনমজুর, কেউবা ভাসমান মানুষ—সবাই এক বেলা খাবারের আশায় অপেক্ষায় থাকেন। বেলা একটা থেকে দেড়টার মধ্যেই তাঁরা এসে সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন। ঘড়ির কাঁটা দুইটা ছুঁতেই একটি ভ্যান এসে থামে, আর শুরু হয় গরম ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম বা মাছ-মাংস পরিবেশন। দুজন স্বেচ্ছাসেবক পুরো কার্যক্রম তদারক করেন।
এই মানবিক উদ্যোগের নাম ‘অনাহারীর আহার’, যা পরিচালনা করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নৃ ফাউন্ডেশন। বছরের ৩৬৫ দিনই চলে এই কর্মসূচি। প্রতিদিনের তালিকায় থাকা খাবারের বাইরে মৌসুমভেদে দেওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের ফলও। রমজান মাসে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। এছাড়া কারও মা–বাবার মৃত্যুবার্ষিকী, সন্তানের জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে অনেকেই বিশেষ খাবারের আয়োজন করেন বলে জানান সংগঠনের সদস্যরা।
২০২০ সালের করোনাকালীন সময়ে লকডাউনে কর্মহীন মানুষের দুর্দশা দেখে মো. মাশরেকুল হক, মাজহারুল হক, রাজিব আহমেদসহ ১৫ থেকে ২০ জন যুবক নিজেদের অর্থায়নে খাবার বিতরণ শুরু করেন। ওই বছরের ৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে নৃ ফাউন্ডেশন। সেই থেকে টানা ছয় বছর ধরে প্রতিদিন মানুষের জন্য এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
"কেউ যেন ক্ষুধার্ত না থাকে—এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের যাত্রা। মানুষের সহযোগিতায় ছয় বছর ধরে প্রতিদিন এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে পেরেছি।"
বর্তমানে শেরপুর শহরের মাধবপুর এলাকায় সংগঠনটির একটি অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে। ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীরাও যুক্ত হচ্ছেন এ উদ্যোগে। ২১ সদস্যের একটি কমিটি সংগঠনটি পরিচালনা করছে। এর মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাত সদস্যের একটি কার্যকরী কমিটি রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দারোগালী পার্ক, শেরপুর শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাজহারুল হক (সাধারণ সম্পাদক, নৃ ফাউন্ডেশন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০-৮০ জন, ৩৬৫ দিন, ১৫০-২০০ জন (রমজানে), ২১ সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!