📌 মৌলভীবাজারের ৫৩ হাজার একরের বেশি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ করাতকল পরিচালনার ফলে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলায় মোট ১৯৩টি করাতকল থাকলেও ৫৩টি অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত। পরিবেশকর্মীরা বন বিভাগের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন
মৌলভীবাজারের টিলা-পাহাড়বেষ্টিত সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ করাতকল পরিচালনার কারণে দ্রুত উজাড় হয়ে যাচ্ছে বনভূমি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্তূপাকারে রাখা হয়েছে কাঠের গুঁড়ি। সিলেট বিভাগীয় বন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে মোট ৫৩ হাজার ১০৯ একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এ জেলায় এখন পর্যন্ত ১৯৩টি করাতকল রয়েছে, যার মধ্যে বৈধ লাইসেন্সধারী ১৪২টি এবং অবৈধ ৫৩টি। এর মধ্যে উচ্চ আদালতে রিট ও স্বত্ব মামলা করা হয়েছে ৪০টি করাতকল নিয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিমাণ ৫৩ হাজার ১০৯ একর
- 📌 মোট করাতকল সংখ্যা ১৯৩টি, যার মধ্যে অবৈধ ৫৩টি
- 📌 বৈধ করাতকল ১৪২টি হলেও ৪০টির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে
- 📌 অবৈধ করাতকল চালু রাখতে বন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ
- 📌 পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, অবৈধ করাতকল বন্ধে বন বিভাগের ভূমিকা নেই
📰 বিস্তারিত
কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সংরক্ষিত বন ও সড়কের পাশে অসংখ্য করাতকল গড়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কাঠ ব্যবসায়ী জানান, সড়কের পাশ থেকে চুরি করা গাছ এসব করাতকলে নিয়ে আসা হয়। বৈধ ও অবৈধ গাছের পার্থক্য না করে সবই চেরাই করা হয়। অবৈধ করাতকলগুলো চালু রাখতে মালিকেরা বন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন করাতকলের মালিক জানান, অনেক করাতকল আদালতে রিট করে চালু রাখছে। বন বিভাগ অভিযান চালালেও তাদের ম্যানেজ করে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ করেন, অবৈধ করাতকল পরিচালনার জন্য বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরই দায়ী। তারা যত্রতত্র করাতকল পরিচালনার অনুমতি দিলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। জেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ মূল্যবান গাছ প্রতিদিন চুরি হচ্ছে। পরিবেশকর্মী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় অসংখ্য অবৈধ করাতকল রয়েছে। এসব করাতকল থেকে নিয়মিত ঘুষ নিয়ে বন বিভাগের কর্মীরা চুপ থাকেন। ফলে গাছ চুরি বন্ধ হচ্ছে না।’
মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও লাইসেন্স বন বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে বেশ কিছু অবৈধ করাতকল বন্ধ করা হয়েছে। তবে উচ্চ আদালতে রিট থাকায় অনেক করাতকল বন্ধ করা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, বৈধ করাতকলগুলোর লাইসেন্স প্রতিবছর নবায়ন করতে হয়। অবৈধ করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‘যাদের কাগজপত্র আছে, তাদের প্রতিবছর নবায়ন করতে হবে। যেসব করাতকলের লাইসেন্স নেই, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ — মো. আবদুর রহমান, সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মৌলভীবাজার জেলা
- 👥 প্রধান ব্যক্তি: মো. আবদুর রহমান (সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা)
- 👥 ব্যক্তি: নাজমুল ইসলাম (পরিবেশকর্মী)
- 👥 ব্যক্তি: মো. মাঈদুল ইসলাম (পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক)
- 🔢 সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিমাণ: ৫৩ হাজার ১০৯ একর
- 🔢 মোট করাতকল: ১৯৩টি
- 🔢 অবৈধ করাতকল: ৫৩টি
- 🔢 বৈধ করাতকল: ১৪২টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!