📌 রংপুরে চার ব্যক্তির হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য আদায়ের পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চার ব্যক্তির হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও ভাই পার্থ দাসকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টায় ডিবি অফিস থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার পর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় ডিবি
- 📌 শুক্রবার সন্ধ্যায় মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবারের জন্য ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়
- 📌 ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পার্থ দাসের পায়ে আঘাতের কথা জানান তিনি
- 📌 ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আসামির পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য আদায় করা হয়েছে
- 📌 গত ২২ আগস্ট রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় চার ব্যক্তি খুন হন
📰 বিস্তারিত
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চার ব্যক্তির হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও ভাই পার্থ দাসকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টায় ডিবি অফিস থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার পর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
আটকের আগে সেখানে দৈনিক খবরের কাগজের রংপুর ব্যুরো প্রধান সেলিম সরকারের মোটরসাইকেল আটকিয়ে চাবি ছিনিয়ে নিয়ে মব তৈরির মাধ্যমে লাঞ্ছিত করা হয় পার্থ দাস ও বিনয় দাসকে। ডিবি অফিস থেকে বের হওয়ার সময় পার্থ দাসকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে পার্থ দাস বলেন, 'ডিবি অফিসে আমাকে কোনো শারীরিক আঘাত করা হয়নি। যখন ধরে নিয়ে আসে তখন আমি বিভিন্নভাবে ধরা না দেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় আমার পায়ে আঘাত লাগে। এ কারণে আমি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটি। আমাকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কোনো ধরনের টর্চার করা হয়নি।'
সিদ্ধার্থের পিতা বিনয় দাস জানান, 'ধরে আনার সময় আমরা আতঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু ডিবি অফিসে আনার পর আমাদের আতঙ্ক কেটে যায়। তারা আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমরা তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। পরে তারা আমাদেরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।'
ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামি সিদ্ধার্থ দাসের ভাই পার্থ দাস ও পিতা বিনয় দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, 'তাদেরকে মোবাইল ফোনে এবং গোয়েন্দা সদস্য মারফত একাধিক দিন খবর দেই। কিন্তু তারা কোনোভাবে আমাদের কাছে আসতে চায়নি। এ কারণে আমাদের তাদেরকে আটক করে ডিবি অফিসে নিয়ে আসতে বাধ্য হই।'
তিনি আরও বলেন, 'তাদেরকে মামলার প্রয়োজনে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তারা বেশকিছু তথ্য দিয়েছেন। সেসব বিষয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করব। তারা আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পরবর্তীতে যখন যেভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হবে তাদেরকে ডাকলে তারা ডিবি অফিসে আসবেন। এই প্রতিশ্রুতিতে তাদেরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।'
"তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য উপাধ্য তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।"
গত ২২ আগস্ট ভোররাতে রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং পুত্র আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়ম। এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় গণপতি চক্রবর্তীর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ২৩ আগস্ট ভোর রাতে গ্রেফতার করা হয়।
ওইদিনই রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২ এ ১৬৪ ধারায় খুনের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় তাদের হত্যা করা হয় বলে জানা যায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর মহানগরী, মাছুয়াপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিনয় দাস, পার্থ দাস, সনাতন চক্রবর্তী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন নিহত, ৪৮ ঘণ্টা পর মুক্তি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!