📌 শরীয়তপুর পৌরসভার চার কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন। নির্মাণসামগ্রীর মান ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।
শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা থেকে আটং তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক চার কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল শনিবার তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের মান যাচাই, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চার কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে
- 📌 সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই সড়কের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ
- 📌 স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রীর মান ও তদারকিতে অনিয়ম রয়েছে
- 📌 ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিফাত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
- 📌 সড়ক সংস্কারের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীরা দাবি করেছেন ভারী বৃষ্টি ও যানবাহনের কারণে ক্ষতি হয়েছে
📰 বিস্তারিত
শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা থেকে আটং তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক চার কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গতকাল শনিবার বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে নির্মাণকাজের মান যাচাই, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমামুল হক বেপারি বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের পর আমরা ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে করা কাজ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এর দায় কে নেবে?’ তিনি আরও বলেন, জনগণের অর্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করা হলেও নির্মাণসামগ্রীর মান ও কাজের পরিমাণ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
শরীয়তপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাকার মাথা থেকে আটং তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিফাত এন্টারপ্রাইজ। কাজটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় চার কোটি টাকা এবং মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। গত জুনে সংস্কারকাজ শেষ করে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপরই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিফাত এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে কাজটি নিয়ে বাস্তবায়ন করেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচএম জাকির হোসেন। তবে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সড়ক সংস্কারে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। কাজের নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ীই সংস্কার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টানা বৃষ্টি ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।
সড়ক সংস্কারকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা শরীয়তপুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন গাজী বলেন, সড়কটি সংস্কারের পরপরই টানা কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পুনরায় সংস্কার করা হবে। তিনি আরও জানান, ঠিকাদারের সম্পূর্ণ বিল এখনো দেওয়া হয়নি।
‘সড়কটি সংস্কারের পর আমরা ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে করা কাজ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এর দায় কে নেবে?’ — ইমামুল হক বেপারি, স্থানীয় বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শরীয়তপুর পৌরসভা, শরীয়তপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইমামুল হক বেপারি (স্থানীয় বাসিন্দা), এইচএম জাকির হোসেন (ঠিকাদার), মামুন গাজী (উপসহকারী প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ কোটি টাকা, সাড়ে ৩ কিলোমিটার, ২ মাস
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!