📌 সাতক্ষীরা জেলায় সুপেয় পানির সংকট ও জলাবদ্ধতার সমাধানে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পুকুর সংরক্ষণ ও নদী-খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের দায়িত্ব তুলে ধরেছেন বক্তারা
সাতক্ষীরা জেলায় সুপেয় পানির সংকট নিরসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। গতকাল বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেটে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা অন্তর্ভুক্তিকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি উত্থাপিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় একশনএইডের সুশীল প্রকল্প ও প্রথম আলোর উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সুপেয় পানি সংকট নিরসনে** সরকারি পুকুর সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা ও সুলভ মূল্যে গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি জানান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু।
- 📌 **টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে** বরাদ্দের দাবি জানান শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলীয় এলাকার দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলগুলোর জন্য।
- 📌 **জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত** ২২ থেকে ২৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ও কর্মহীন ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষককে পুনর্বাসনের জন্য টেকসই পরিকল্পনা চাইছেন বক্তারা।
- 📌 **নারীদের অগ্রাধিকার** দাবি করা হয় প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টনে।
- 📌 **সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল** পুনরায় চালু হলে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা।
- 📌 **চিংড়ি, কুল ও মাছ পরিবহনে** ব্যয় কমাতে রেললাইন নির্মাণ ও হিমাগার স্থাপনের প্রস্তাব দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব।
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরা জেলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জাতীয় বাজেটে সুপেয় পানির সংকট নিরসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। উপকূলীয় এই জেলায় দুর্যোগ ও লবণাক্ততার ঝুঁকি বিবেচনায় বরাদ্দের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু বলেন, একটি বা দুটি পুকুর দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তিনি পর্যায়ক্রমে পুকুর খনন ও পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে বলে দাবি করেন। শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে বলে তিনি বলেন।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উপযুক্ত প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে টেকসই প্রকল্প গড়ে তোলার দাবি জানান। তিনি পানিনিষ্কাশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দখল হওয়া খাল উদ্ধার ও খনন এবং শহরের খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে চাইছেন।
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতায় ২২ থেকে ২৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মহীন হন ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক। এই সমস্যা সমাধানে টেকসই পরিকল্পনা, জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিহীন হওয়া মানুষের আবাসন ও কর্মসংস্থান এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টনে নারীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে দাবি করা হয়।
নারী অন্ত্যজ পরিষদের সুমা সরকার নিরাপদ পানির অভাবে নারীদের বাড়তি ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। নলতা আহছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মোমেনা খানম বলেন, অনেক পরিবারকে পানি কিনে খেতে হয়। যাঁদের সামর্থ্য নেই, তাঁদের দুর্ভোগ বেশি। সবার জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি বলেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও কর্মহীন কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা দরকার। তিনি কৃষি, চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের বাস্তবতা বিবেচনায় সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
"দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল চালু হলে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।"
কর্মসংস্থান ও উপকূলীয় অর্থনীতিতে গুরুত্ব দেন বক্তারা। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল বারী বলেন, কৃষি, মৎস্য, ফল, দুগ্ধ, মধু, ভোমরা স্থলবন্দর ও সুন্দরবনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে সাতক্ষীরা। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকিতে ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কাজিরহাট ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, চিংড়ি, কুল, মাছ ও সবজি পরিবহনে ব্যয় কমাতে রেললাইন নির্মাণ ও হিমাগার স্থাপনের প্রস্তাব দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ। তিনি সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাতক্ষীরা জেলা, শ্যামনগর, আশাশুনি উপকূল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু জাহিদ ডাবলু, মাওলানা আজিজুর রহমান, মোমেনা খানম, মাধব চন্দ্র দত্ত, মো. আব্দুল বারী, মো. ইদ্রিস আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২-২৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি, ২৫-৩০ হাজার কর্মহীন কৃষক, ২ হাজার ৫০০-৩ হাজার কর্মসংস্থান, ২০ হাজার ৯১১ জন নারী সুবিধাভোগী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!