📌 নীলফামারীর সৈয়দপুর রেল কারখানায় ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি রেলকোচের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহে এই কোচগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা ও সুবিধাসমূহের সাথে ট্রায়াল রান অনুষ্ঠিত হবে। কোচগুলোতে ইউরোপীয় মানদণ্ডে তৈরি অ্যান্টি-টেলিস্কোপিক বৈশিষ্ট্য, সিসিটিভি নজরদারি, প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম এবং শিশু পরিচর্যা রুমসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রয়েছে
নীলফামারীর সৈয়দপুর রেল কারখানায় ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি রেলকোচের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে এই কোচগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা ও সুবিধাসমূহের সাথে পরীক্ষামূলক চলাচল (ট্রায়াল রান) অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে রেলের পরিবহন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কারখানা কর্তৃপক্ষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮টি রেলকোচ ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে, যেগুলোতে ইউরোপীয় মানদণ্ডে তৈরি অ্যান্টি-টেলিস্কোপিক ও অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- 📌 পরীক্ষামূলক চলাচল (ট্রায়াল রান) আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে অনুষ্ঠিত হবে।
- 📌 কোচগুলোতে রয়েছে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম, শিশু পরিচর্যা রুম এবং ফোল্ডিং আসন।
- 📌 ১৭ অক্টোবর ভোর ৪টায় প্রথম চালানে ১৮টি কোচ সৈয়দপুর কারখানায় পৌঁছায়।
- 📌 ডিএস শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বলেছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সফল ট্রায়াল রান হলে কোচগুলো ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হবে।
📰 বিস্তারিত
আজ রোববার সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়াগন শপ ইয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় প্রকৌশলীরা কারখানার প্রকৌশলী ও কারিগরদের সঙ্গে নিয়ে কোচগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত। কোচগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা (ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন) বেশ আধুনিক। আসনগুলোতে রয়েছে ফোল্ডিং ব্যবস্থা। কোচগুলোতে সুসংহত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজনের জন্য প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ জানান, ‘রেলওয়ে কারখানায় আনা এ কোচগুলোকে নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ কাজে রেল কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারতের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ইতিমধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রায় শেষের পথে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই কোচগুলোর ট্রায়াল রানের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রায়াল রান সফল হলে সেগুলো ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হবে।’
রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে ভারত থেকে আসা প্রথম চালানের ১৮টি কোচ সৈয়দপুর কারখানায় পৌঁছায়। এরপর সেখানে বিশেষ ডিপ্রসেসিং, যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কমিশনিং কাজ শুরু হয়, যা ইতিমধ্যে শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ ও ক্রু ক্র্যাফটের সহায়তায় সফলভাবে ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক চলাচল সম্পন্ন করা হবে।
কোচগুলোর কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা যায়, ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি এই কোচগুলোতে অ্যান্টি-টেলিস্কোপিক ও অ্যান্টি-ক্লাইম্বিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষের সময় কোচগুলো একে অপরের ওপর উঠে যাবে না। পুরোনো স্ক্রু কাপলিং ব্যবস্থার বদলে উন্নত সিবিসি কাপলিং থাকায় কোচগুলোতে ঝাঁকুনি অনেক কম হবে এবং ভ্রমণ হবে আরামদায়ক। এছাড়াও, কোচগুলোতে রয়েছে ছোট শিশুদের ভ্রমণের সুবিধার্থে আলাদা শিশু পরিচর্যা বা বেবি কেয়ার রুম। কোচে নামাজের স্থান বা প্রার্থনাকক্ষও রয়েছে। বাংলাদেশের রেলপথে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে, কোচগুলোতে অতিরিক্ত ওজন বহনের উপযোগী করে কাঠামোগতভাবে শক্তিবৃদ্ধি করা হয়েছে।
"রেলওয়ে কারখানায় আনা এ কোচগুলোকে নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ কাজে রেল কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার পাশাপাশি ভারতের বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। ইতিমধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রায় শেষের পথে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই কোচগুলোর ট্রায়াল রানের পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রায়াল রান সফল হলে সেগুলো ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হবে।"
"— ডিএস শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৈয়দপুর রেল কারখানা, নীলফামারী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডিএস শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮টি রেলকোচ, ১৭ অক্টোবর, ৪ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!