📌 চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতারা। তারা দাবি করছেন, জাতীয় সম্পদ বিদেশি হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিলে নামলেন। বন্দর রক্ষা কমিটির উদ্যোগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বন্দর অভিমুখে মিছিল বের হয়। বিক্ষোভকারীরা বন্দরের দুই নম্বর গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশের অনুরোধে কর্মসূচি শেষ হলেও তারা ইজারা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে পদযাত্রা চালিয়ে যান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতারা
- 📌 ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি তপন দত্ত বলেন, বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় স্বার্থের বিপরীত
- 📌 জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন দাবি করেন, ইজারা প্রস্তাব বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে
- 📌 শ্রমিক নেতা কাজী শেখ নূরুল্লাহ বাহার বলেন, ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্র রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিরাপত্তা বিপন্ন হবে
- 📌 বন্দর রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার বলেন, সরকারকে ঘোষণা দিতে হবে যে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়া হবে না
- 📌 আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন শ্রমিক ও রাজনৈতিক নেতারা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বন্দর রক্ষা কমিটির উদ্যোগে নগরীর বারিক বিল্ডিং এলাকা থেকে মিছিল বের হয়। বিক্ষোভকারীরা বন্দর অভিমুখে এগিয়ে দুই নম্বর গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশের অনুরোধে কর্মসূচি শেষ হলেও তারা ইজারা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে পদযাত্রা চালিয়ে যান।
সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)-এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর হলো বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোকে কোনো বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া কখনোই জাতীয় স্বার্থের অনুকূল হতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘টার্মিনালগুলো ইজারা দেওয়ার যেকোনো সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সাথে জড়িত একটি কৌশলগত স্থাপনা।’ তিনি ইজারার এই প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। শ্রমিক নেতা কাজী শেখ নূরুল্লাহ বাহার বলেন, ‘ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং বন্দর শ্রমিকদের চাকরি, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।’
বন্দর রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার এনসিটি ও সিসিটিকে ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পুরো হাঁসটিকেই গিলে ফেলার চেষ্টা করছে। জাতীয় স্বার্থে আমরা এ ধরনের কোনো উদ্যোগ কিছুতেই মেনে নেব না।’ তিনি জানান, পরিষদ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
"বন্দরের সম্পদ ও অবকাঠামো জনগণের সম্পত্তি। দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির কাছে এ ধরনের জাতীয় সম্পদ হস্তান্তর করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে শ্রমিক ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তপন দত্ত (টিইউসি সভাপতি), এএম নাজিম উদ্দিন (জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সভাপতি), কাজী শেখ নূরুল্লাহ বাহার (শ্রমিক নেতা), দেলোয়ার মজুমদার (বন্দর রক্ষা পরিষদ আহ্বায়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ সেপ্টেম্বর (মিছিলের তারিখ), ৫ অক্টোবর (আগামী অবস্থান কর্মসূচির তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!