📌 জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ও প্রখ্যাত ওষুধবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক (৭৪) বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ফারুক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিতকরণে সক্রিয় ছিলেন
জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও প্রখ্যাত ওষুধবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক (৭৪) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় নিউইয়র্কের নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দৈনিক সংবাদ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাসেম হুমায়ুন নিশ্চিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের পুরোধা ও প্রখ্যাত ওষুধবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক (৭৪) বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 মৃত্যুকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন
- 📌 মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ নিশ্চিতকরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন
- 📌 ২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বাজারে প্রচলিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়
- 📌 মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন
📰 বিস্তারিত
অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাবিবুর রহমান সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। পিতার কর্মস্থল সূত্রে পরিবারটি ঢাকার মিরপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন এবং একই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন এবং ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তিনি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অবসরের পর তিনি সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন এবং ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত হন। জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ‘জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬’ প্রণয়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নিরাপদ খাদ্য ও ওষুধ নিশ্চিতে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও নীতি-নির্ধারণী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত তরল দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের ক্ষতিকর উপস্থিতির তথ্য উঠে আসে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশের পর তৎকালীন সরকারের কিছু আমলা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাঁকে হুমকি ও আইনি ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়েছিল। চাপের মধ্যেও তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত জনস্বাস্থ্য সচেতনতা, ওষুধ শিল্পের মান নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে তিনি গণমাধ্যমে সোচ্চার ছিলেন।
"অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক ছিলেন জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ নিশ্চিতকরণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!