📌 গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা বিরল বামন শালিক পাখির তিন বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন একজন পক্ষীবিদ। দেশের বাইরে ভারতের রাজস্থানেও পাখিটির দেখা মিলেছে
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর দুপুরে প্রথম একটি বিরল পাখির দেখা পান পক্ষীবিদ আ ন ম আমিনুর রহমান। একটি মরা গাছের ডালে একাকী বসে থাকা পাখিটির মাথার ঝুঁটির আকার ছোট ও রং মলিন হওয়ায় প্রাথমিকভাবে তিনি অন্য কোনো প্রজাতির পাখি ভেবেছিলেন। তবে ল্যাপটপে ছবি দেখার পর তা বামন শালিক হিসেবে শনাক্ত করেন। একই বছর আরও দুবার কম বয়সী পাখিটিকে ক্যাম্পাসে দেখলেও পরবর্তীতে আর দেখা যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিরল বামন শালিক প্রথম দেখা যায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর
- 📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই দেশের মধ্যে একমাত্র স্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে চিহ্নিত
- 📌 ২০১৪ সালের ২২ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো পাখিটির বাসা ও ছানার ছবি তোলেন গবেষক
- 📌 ২০১৫ সালের ১৭ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির খাদ্য সংগ্রহ ও ছানাদের খাওয়ানোর দৃশ্যের ২৩২টি ছবি তোলা হয়
- 📌 ২০১৮ সালের ১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পক্ষী আলোকচিত্রী মো. ইমরুল কায়েসের সহায়তায় পাখির ২৬০টি ছবি তোলা হয়
- 📌 দেশের বাইরে ভারতের রাজস্থান প্রদেশের ভরতপুর পক্ষী অভয়ারণ্যে পাখিটির দেখা মিলেছে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে
- 📌 বামন শালিকের বৈজ্ঞানিক নাম Sturnus pagodarum এবং দেহের দৈর্ঘ্য ২০-২২ সেন্টিমিটার
📰 বিস্তারিত
আ ন ম আমিনুর রহমান নামের একজন পক্ষীবিদ ও পাখি বিশেষজ্ঞ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর দুপুরে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথম একটি বিরল পাখির দেখা পান। একটি মরা গাছের ডালে একাকী বসে থাকা পাখিটির মাথার ঝুঁটির আকার ছোট ও রং মলিন হওয়ায় তিনি প্রাথমিকভাবে অন্য কোনো প্রজাতির পাখি ভেবেছিলেন। তবে ল্যাপটপে ছবি আপলোড করার পর তা বামন শালিক হিসেবে শনাক্ত করেন। একই বছর আরও দুবার কম বয়সী পাখিটিকে ক্যাম্পাসে দেখলেও পরবর্তীতে আর দেখা যায়নি।
২০১২ সালের ২৪ মে প্রাণিচিকিৎসা ছাত্রদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় বহিঃপরীক্ষক হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি একটি প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেখা পান। এরপর তিনি বুঝতে পারেন যে দেশের মধ্যে একমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই পাখিটিকে নিয়মিত দেখা যায়। পরবর্তীতে তিনি পাখিটির ভালো ছবি তোলার জন্য বহুবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান।
২০১৪ সালের ২২ মে বিরল ও দুর্লভ পাখি নিয়ে তিন বছরের এক গবেষণা প্রকল্পের কাজে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি প্রথমবারের মতো পাখিটির বাসা ও ছানার ছবি তুলতে সক্ষম হন। এরপর থেকে তিনি যখনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান, তখনই পাখিটিকে দেখতে পান।
২০১৫ সালের ১৭ মে বিরল ও দুর্লভ পাখির প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে দুপুর ৩৭ মিনিটে পাখির খাদ্য সংগ্রহ থেকে বাসায় ছানাদের খাওয়ানোর দৃশ্যের ২৩২টি ছবি তুলেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান পক্ষী আলোকচিত্রী মো. ইমরুল কায়েসকে নিয়ে। কায়েস তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যানবাহন শাখার পাশের দুটি গাছে দুটি বাসা দেখিয়ে দেন। সেদিন দুপুর সোয়া বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত পাখিদের কোনো রকম বিরক্ত না করে ধীরেসুস্থে তাদের ২৬০টি ছবি তোলেন তিনি।
দেশের বাইরে পাখিটিকে দেখেছিলেন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজস্থান প্রদেশের ভরতপুর পক্ষী অভয়ারণ্যে। গাজীপুর কৃষি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা বিরল পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Sturnus pagodarum। পাখিটির দেহের দৈর্ঘ্য ২০-২২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪০-৫৪ গ্রাম। মাথায় ছোট্ট কালো টুপি ও ঝুঁটি থাকায় কালো-মাথা ময়না নামেও পরিচিত।
"প্রথম দর্শনে কাঠশালিক মনে হলেও মাথার কালো পালক দেখে সহজেই কাঠশালিক থেকে আলাদা করা যায়। স্ত্রীর তুলনায় পুরুষের মাথার টুপি ও ঝুঁটি বেশি বড়। চিবুক, ঘাড়, গলা, বুক ও পেট লালচে কমলা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজস্থান (ভারত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আ ন ম আমিনুর রহমান, মো. ইমরুল কায়েস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ (নভেম্বর ২০১১), ২৪ (মে ২০১২), ২২ (মে ২০১৪), ১৭ (মে ২০১৫), ৩৭ (মিনিট), ২৩২ (ছবি), ১ (জুলাই ২০১৮), ২৬০ (ছবি), ২০-২২ (সেন্টিমিটার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!