📌 বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেশের ছাগলের দেহে প্রথমবারের মতো ‘বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স’ নামক বিরল ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেছেন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াটির কিছু প্রজাতি মানুষের জন্য মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক দেশের ছাগলের দেহে বিরল ব্যাকটেরিয়া ‘বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স’ শনাক্ত করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে এ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকলেও বাংলাদেশের ছাগলের মধ্যে এর উপস্থিতি প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘পিএলওএস ওয়ান’-এ প্রকাশিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াটির কিছু প্রজাতি মানুষের শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের ছাগলের দেহে প্রথমবারের মতো ‘বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স’ ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত
- 📌 ব্যাকটেরিয়াটির কিছু প্রজাতি মানুষের জন্য মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে
- 📌 গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বাকৃবির অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান ও প্রধান গবেষক আবদুল্লাহ আল মামুন
- 📌 গবেষণায় অংশ নিয়েছেন দেশি-বিদেশি ১০ জন গবেষক
- 📌 ৪০টি ছাগলের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় দেশের ছাগলের মধ্যে বিরল ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াটির কিছু প্রজাতি মানুষের শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ রয়েছে, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী গবেষকদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন, এস. এম. সুজন আশরাফ, আমির হামজা শুভ, ফারহান ইবনে সিদ্দিক, হাসান খান, নাঈম আহমেদ ইব্রাহিম ফাহিম, চন্দ্র শেখর চৌহান, ফারজানা ইয়াসমিন, ড. মো. মাহবুব আলম ও ড. মো. তানভীর রহমান। এছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের গবেষকরাও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
গবেষণায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা অনুদান ব্যবহৃত হয়। গবেষণায় দেশের একটি খামার থেকে সংগৃহীত ৪০টি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩০টি ছাগলের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও গর্ভপাতের ইতিহাস ছিল, আর বাকি ১০টি ছিল সুস্থ। পরীক্ষায় অসুস্থ ছাগলের কয়েকটি নমুনায় ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরবর্তী ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে তা বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্স হিসেবে নিশ্চিত হন গবেষকেরা।
"বাংলাদেশের ছাগলের মধ্যে বারখোল্ডেরিয়া সেপাসিয়া কমপ্লেক্সের উপস্থিতির এটি প্রথম বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। এ আবিষ্কার ব্যাকটেরিয়াটির বিস্তার, সংক্রমণের উৎস ও প্রাণিস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন গবেষণার দ্বার উন্মোচন করেছে।"
গবেষকরা জানান, ব্যাকটেরিয়াটির বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ভারত, জাপান ও চীনে আগে শনাক্ত হওয়া প্রজাতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় পাওয়া ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জেনব্যাংক তথ্যভান্ডারেও সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে গবেষণায় ছাগল থেকে মানুষের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা জানান, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি নির্ধারণে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০টি ছাগলের নমুনা, ৩০টি অসুস্থ, ১০টি সুস্থ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!