📌 জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন ও বিএনপির দাবির মুখে র্যাবকে বিলুপ্ত করে এসআরবি নামে নতুন ইউনিট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা এই বাহিনীর পুরোনো ক্ষমতা ও কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে
জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং বিএনপির দাবির মুখে র্যাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন ইউনিট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘এসআরবি আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারের তথ্যবিবরণী অনুসারে, বিদ্যমান র্যাবকে বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘ ও গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দাবি থাকলেও র্যাবকে বিলুপ্ত না করে এসআরবি নামে নতুন ইউনিট গঠন করা হয়েছে
- 📌 র্যাবের পুরোনো জনবল, ক্ষমতা, তহবিল ও সম্পত্তি এসআরবিতে স্থানান্তর করা হবে
- 📌 নতুন ইউনিটকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে
- 📌 মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে র্যাব ও সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে
- 📌 বিএনপি সরকার গঠনের আগে র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিল
📰 বিস্তারিত
র্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং গোপন বন্দিশালা পরিচালনার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বারবার বাহিনীটি বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপি সরকার গঠনের আগে দলটি সরাসরি র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিল। অথচ সরকার এখন র্যাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে এসআরবি নামে নতুন ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত ‘এসআরবি আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, র্যাবের প্রায় সব ক্ষমতা ও কাঠামোই এসআরবিতে স্থানান্তর করা হবে। র্যাবের বর্তমান জনবল, কর্তৃত্ব, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব ও নথি এসআরবিতে স্থানান্তর করা হবে। এমনকি র্যাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন ইউনিটের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। র্যাবের দায়দায়িত্ব, চুক্তি এবং চলমান মামলাগুলোও এসআরবির নামে চলবে।
নতুন ইউনিটকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, র্যাবের পুরোনো কাঠামো রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে না। নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ ও সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সদস্যদের শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্র ও ব্যবস্থা সম্পর্কেও আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।
তবে মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সরকার র্যাব বিলুপ্ত করার কথা বললেও এখানে নতুন কিছু নেই। পুরোনো কাঠামো ও ক্ষমতা বহাল থাকলে এসআরবি আরেকটি ভয়ংকর বাহিনী হিসেবে সামনে আসতে পারে।
"র্যাবের ক্ষেত্রে আগে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল; নতুন আইনে সেই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে এমন বাহিনী দরকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: আইনে ২৭টি ধারা, যার মধ্যে ২৬ ধারায় র্যাব রহিত করার বিধান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!