📅 ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

পুরান ঢাকার গোপন ইতিহাস: অপমানের প্রতিশোধে গড়ে ওঠে রোজ গার্ডেনের প্রাসাদিক কাহিনী

পুরান ঢাকার গোপন ইতিহাস: অপমানের প্রতিশোধে গড়ে ওঠে রোজ গার্ডেনের প্রাসাদিক কাহিনী

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 পুরান ঢাকার সরু রাস্তায় অবস্থিত রোজ গার্ডেনের পিছনে লুকিয়ে আছে ঋষিকেশ দাসের অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার গল্প। ১৯ শতকের শেষে নির্মিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদে রয়েছে করিন্থীয় স্থাপত্য, দুর্লভ গোলাপের বাগান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০১৮ সালে সরকার ৩৩১ কোটি টাকায় কিনে নেয় এই ঐতিহ্যবাহী ভবন

পুরান ঢাকার অলিগলি রাস্তার সরু পথে, যানজট ও কোলাহলের মাঝে অবস্থিত একটি শ্বেতশুভ্র প্রাসাদ। এই দৃষ্টিনন্দন ভবনটির নাম ‘রোজ গার্ডেন’। কিন্তু এর পিছনে লুকিয়ে আছে একটি অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার গল্প। ১৯ শতকের শেষে নির্মিত এই ঐতিহাসিক জমিদারবাড়িটি ব্রিটিশ আমলের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাসের স্বপ্নের প্রকল্প।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 ঋষিকেশ দাসের অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয় রোজ গার্ডেন, যা ১৯ শতকের শেষে ২২ বিঘা জমিতে গড়ে ওঠে
  • 📌 গোলাপের বাগান তৈরির জন্য চীন, ভারত, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রজাতি সংগ্রহ করা হয়
  • 📌 ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এখানে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) গঠিত হয়
  • 📌 ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকায় ভবনটি কিনে নেয়
  • 📌 ভবনটিতে করিন্থীয় ও গ্রিক স্থাপত্য শৈলী, শ্বেতপাথরের মূর্তি, কৃত্রিম ফোয়ারা ও বিশাল বাগান রয়েছে
  • 📌 প্রতিদিন ১১টা থেকে ৬টা পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের জন্য খোলা থাকে রোজ গার্ডেন, রোববার পুরো দিবস ও সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ

📰 বিস্তারিত

পুরান ঢাকার সরু রাস্তায় অবস্থিত রোজ গার্ডেনের ইতিহাস শুরু হয় ১৯ শতকের শেষ দিক থেকে। ঋষিকেশ দাস ছিলেন ব্রিটিশ আমলের একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তবে তিনি সম্ভ্রান্ত শ্রেণির কাছে তেমন কদর পাননি। একবার জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর বাগানবাড়িতে (বলধা গার্ডেনে) অংশগ্রহণ করার সময় তিনি অপমানিত হন। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে তিনি প্রত্যাবর্তন করেন। তার প্রতিশোধের স্বরূপ গড়ে ওঠে রোজ গার্ডেন।

২২ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই প্রাসাদে ঋষিকেশ দাস গোলাপের বাগান তৈরির জন্য চীন, ভারত, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে গোলাপের প্রজাতি সংগ্রহ করেন। বাগান তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় বাড়ির নির্মাণ। গোলাপের সৌন্দর্যে সাজানো এই বাগানবাড়ির নাম হয় ‘রোজ গার্ডেন’।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রোজ গার্ডেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এখানেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ (বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে। তবে ১৯৯৩ সালে আদালতে মামলা করে মালিকানা ফিরে পান কাজী আবদুর রকীব। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকায় ভবনটি কিনে নেয়।

রোজ গার্ডেনের স্থাপত্য শৈলীতে দেখা যায় করিন্থীয় ও গ্রিক স্থাপত্যের ব্যবহার। ভবনটিতে শ্বেতপাথরের মূর্তি, কৃত্রিম ফোয়ারা, শানবাঁধানো পুকুর, বিশাল বাগান ও গোলাপের সারি রয়েছে। সাদা দেয়ালের পাশে সবুজের আভা ও হরেক রঙের গোলাপের শোভা এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছে। মার্বেল পাথরের মেঝে, ইউরোপীয় শৈলীর কারুকাজ ও খিলান আকৃতির দরজা ভবনটির সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে।

বর্তমানে রোজ গার্ডেন প্রতিদিন ১১টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে রোববার পুরো দিবস ও সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে। ভবনটিতে প্রবেশের জন্য ৩০ টাকার টিকিট কিনতে হয়। গুলিস্তান বা পল্টন থেকে রিকশা নিয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকায় যাওয়া যায়।

"রোজ গার্ডেনের ইতিহাস শুধু জমিদারি কিংবা অভিজাত জীবনযাপনের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: পুরান ঢাকা, অলিগলি রাস্তা
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ঋষিকেশ দাস, কাজী আবদুর রশীদের, কাজী হুমায়ূন বশীর, কাজী আবদুর রকীব
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বিঘা জমি, ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা, ২৩ জুন ১৯৪৯

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖