📌 সাভারের একটি মাদ্রাসায় ছয় মাস ধরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে পাঁচ শিক্ষার্থী ও একটি শিক্ষক ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। শিশুর বাবা মামলা করলেও মাদ্রাসার পরিচালক অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। শিশু মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে এবং বাবা-মা চিকিৎসার জন্য ধার দেনা করেছেন
সাভারের একটি মাদ্রাসায় ছয় মাস ধরে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। এই নির্যাতনের শিকার শিশুটি বয়সে বড় সহপাঠীদের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার হয় এবং পরে মাদ্রাসার শিক্ষকও তার ওপর নির্যাতন চালায়। শিশুর বাবা-মা প্রথম আলোকে জানান, তাদের ছেলেকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা জানার পর মাদ্রাসার পরিচালক কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাত বছর বয়সী শিশু সাভারের একটি মাদ্রাসায় ছয় মাস ধরে পাঁচ শিক্ষার্থী ও একটি শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণ ও নির্যাতিত হয়েছে।
- 📌 মাদ্রাসার পরিচালক শিশুর বাবাকে মামলা না করার অনুরোধ করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু পরে তাদের বিচারের কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
- 📌 শিশুটির বাবা জানান, শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে এবং বাবা-মা ধার দেনা করে তার চিকিৎসা করেছেন।
- 📌 ২৩ আগস্ট শিশুর বাবা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মাদ্রাসার পরিচালকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
- 📌 ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ছয় মাস ধরে শিশুটি বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ ও নির্যাতিত হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সাত বছর বয়সী শিশুটি মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করার তিনেক দিনের মধ্যে বয়সে বড় এক সহপাঠীর মাধ্যমে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। এই ঘটনাটি জানতে পেরে মাদ্রাসার আরেক শিক্ষার্থীও শিশুটিকে ধর্ষণ করে। ক্রমান্বয়ে আরও তিন শিক্ষার্থী ও একটি শিক্ষক শিশুটিকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে। শিশুটি নিরাপত্তার জন্য শিক্ষকের কাছে গিয়েছিল, কিন্তু শিক্ষকও তাকে মারধর করেন।
শিশুর বাবা জানান, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শিশুটির ওপর চাপ দিয়ে বলেছিলেন যে, যদি ঘটনাটি কাউকে বলা হয় তাহলে শিশুটি মাদ্রাসা থেকে হেফজখানা উঠতে পারবে না, পরীক্ষায় পাস করবে না এবং কোরআনের হাফেজ হতে পারবে না। শিশুটি এই কথা আরেক সহকারী শিক্ষককে জানিয়েছিল, কিন্তু তাকে মিথ্যা বলার জন্য মারধর করা হয়।
শিশুর বাবা ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় মাদ্রাসায় গিয়ে পরিচালককে ঘটনার বিস্তারিত জানান। পরিচালক শিশুটির কথাও শুনেন এবং শিশুর বাবাকে মামলা না করার অনুরোধ করেন। পরিচালক শিশুর বাবাকে আশ্বস্ত করেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জেলে পাঠানো হবে। কিন্তু পরদিন ১৬ আগস্ট আবার গিয়ে জানতে পারেন যে, অভিযুক্তদের বিচার করা হয়েছে এবং জুতাপেটা করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পরিচালক শিশুর বাবাকে আর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অনুরোধ করেন।
শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ১৮ আগস্ট সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হয়। শিশুর বাবা বলেন, ‘আমার ছেলের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে এরা। আমার ছেলে এখন মানসিক রোগী। ছাত্র-শিক্ষক মিলে ছয় মাস আমার ছেলেকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
“ফেব্রুয়ারি মাসে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় ছেলেকে দিয়েছিলাম। প্রথম ২০ থেকে ২২ দিন সব ঠিকই ছিল। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সে বলাৎকারের শিকার হয়। প্রথমে শিক্ষার্থী এবং পরে শিক্ষক তাকে বলাৎকার করে। মামলা করেছি কিন্তু বিচার পাইনি।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সাভার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশুর বাবা, মাদ্রাসার পরিচালক, পাঁচ শিক্ষার্থী ও একটি শিক্ষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ বছর বয়সী শিশু, ৬ মাস ধরে নির্যাতন, ৫ শিক্ষার্থী, ১ শিক্ষক, ২৩ আগস্ট মামলা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!