📌 ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর ভাঙচুর-অগ্নিকাণ্ড মামলায় সাড়ে ১০ মাস পরও তদন্ত এগোয়নি। ৩৯ আসামি জামিনে মুক্ত হলেও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশের বিলম্বিত পূরণে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা নতুন আসামি শনাক্তের সম্ভাবনা দেখছেন না
ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ভবনে সাড়ে ১০ মাস আগে সংঘটিত ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলায় তদন্ত এগোয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশের বিলম্বিত পূরণে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) নতুন আসামি শনাক্তের সম্ভাবনা দেখছেন না। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৩৯ জন আসামি সবাই জামিনে মুক্ত হলেও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১০ মাস পরও তদন্ত বন্ধ: প্রথম আলোর ভাঙচুর-অগ্নিকাণ্ড মামলায় তদন্ত এগোয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পরও অভিযোগপত্র জমা পড়েনি।
- 📌 ৩৯ আসামি জামিনে মুক্ত: মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সবাই জামিনে মুক্ত হলেও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।
- 📌 হামলাকারীদের পরিচয় নেই: ডিবি হামলার সময়ের ভিডিও, ছবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফুটেজ পর্যালোচনা করেও হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি।
- 📌 ২৫+১৪ জন গ্রেপ্তার: হামলার পর প্রথম ৮ দিনে ২৫ জন, পরে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও নতুন আসামি শনাক্তের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
- 📌 ডার্ক ওয়েব তদন্ত ব্যর্থ: ডিবি ডার্ক ওয়েবের একটি গ্রুপকে দায়িত্ব দিয়েছিল, কিন্তু তারা নতুন আসামি শনাক্ত করতে পারেনি।
- 📌 মোবাইল ফোন লিংক পাওয়া যায়নি: হামলাকারীদের মোবাইল ফোন থেকে লিংক বা অবস্থান তথ্য পাওয়া যায়নি।
- 📌 ফরেনসিক পরীক্ষা শেষ হয়নি: ছয়জন আসামির মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হলেও প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
- 📌 ২ মাসের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ: বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা আগামী দুই মাসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ভবনে সংঘটিত ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্ত এগোয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ফেব্রুয়ারি (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সাড়ে ১০ মাস পরও তদন্ত এগোয়নি। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৩৯ জন আসামি সবাই জামিনে মুক্ত হলেও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।
তদন্ত তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডার্ক ওয়েবের একটি গ্রুপকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, তারা নতুন আসামি শনাক্ত করতে পারেনি। তাই এখন আসামি শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন ধরাধরি শুরু করি, তখন হামলাকারীরা ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট ডিলিট করে ফেলেন। প্রথম দফায় যেভাবে ধরপাকড় করেছিলাম, পরে সেভাবে আর পারিনি। মোবাইল ফোনে উসকানি দিয়েছে এমন লোকদের মামলায় রাখা যায়নি কারণ তাদের অবস্থান বা লিংক পাওয়া যায়নি।’
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ মিনহাজ উদ্দিন বলেন, তিনি মামলার তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তা। আগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ত্রিদীপ বড়ুয়ার কাছ থেকে তিনি নথিপত্র বুঝে নিয়েছেন। তিনি জানান, হামলার রাতের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এখনো শেষ হয়নি। আগের তদন্ত কর্মকর্তা ছয়জন ছাড়া অন্য কোনো আসামির মুঠোফোন জব্দ করেননি। তাই কেবল ওই ছয়জনের মুঠোফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা আরও অনেকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাঁদের কেউ কেউ সরাসরি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে অংশ নিয়েছিলেন, কেউ কেউ হামলাকারীদের সঙ্গে অবস্থান, স্লোগান ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
"আমরা যখন ধরাধরি শুরু করি, তখন তাঁরা ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট ডিলিট করে ফেলেন। প্রথম দফায় যেভাবে ধরপাকড় করেছিলাম, পরে সেভাবে আর পারিনি।"
তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানান, হামলার রাতের একাধিক ভিডিও ফুটেজ, সংবাদমাধ্যমের ছবি এবং ঘটনাস্থলের স্থিরচিত্র সংগ্রহ করা হলেও হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করা যায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার কারওয়ান বাজার, প্রথম আলো ভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. শফিকুল ইসলাম (ডিবিপ্রধান), সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), শাহ মিনহাজ উদ্দিন (এসআই)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯ জন আসামি, ২৫+১৪ জন গ্রেপ্তার, ১০ মাস তদন্ত বন্ধ, ৬ জনের মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষাধীন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!