📌 নিখোঁজ শিশুদের পরিবারবর্গের উদ্যোগে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অধীনে বিশেষ সেল গঠনের দাবি জানানো হয়। ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি জিডি দাখিল হলেও বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে
নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের অধীনে বিশেষ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছেন শিশুদের স্বজনরা। তারা দাবি করেছেন, নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা না করে দ্রুত জিডি দাখিল ও অনুসন্ধান শুরু করলে উদ্ধারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত জিডি নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকার রাজধানী রিপোর্টার্স ইউনিটে 'আমার সন্তান কোথায়?' শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারবর্গের দাবি জানানো হয়
- 📌 জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ সেল গঠন প্রয়োজন
- 📌 ২০২৩-২৫ সালের মধ্যে নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত জিডি দাখিল হয়েছে ৫৬ হাজার ৭৭২টি; বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে
- 📌 ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে চালু মুন অ্যালার্ট ও টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান চলছে
- 📌 ৪০টি পরিবারের সদস্য উপস্থিত হয়ে দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও অমীমাংসিত ঘটনার পুনঃতদন্তের দাবি জানান
📰 বিস্তারিত
আজ রোববার ঢাকার রাজধানী রিপোর্টার্স ইউনিটের শফিকুল কবির মিলনায়তনে 'আমার সন্তান কোথায়?' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারবর্গের উদ্যোগে এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে পুলিশের দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর যত দ্রুত জিডি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয়, তত বেশি সম্ভাবনা থাকে শিশুকে উদ্ধার করা।
শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশের একটি বিশেষ সেল থাকা প্রয়োজন। এই সেলের মাধ্যমে নিখোঁজের পরপরই দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করা গেলে অনেক শিশুকে পাচার বা অন্য কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আগেই উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, '২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা না করে দ্রুত জিডি দাখিল ও অনুসন্ধান শুরু করলে শিশুদের উদ্ধারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।'
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের পর এক লাখ মানুষের পিটিশন স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহযোগিতায় এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন (মুন অ্যালার্ট) ও টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর পাইলট কার্যক্রম চালু হয়।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত জিডি হয়েছে ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এ ধরনের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ৭১৭টি। বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানানো হয়।
"কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরও পুলিশ জিডি নিতে চায় না। অথচ যত দ্রুত জিডি নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে, তত বেশি শিশুকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা দাবি জানান, নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান। তিনি বলেন, 'আমেরিকাসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে কোনো শিশু নিখোঁজ হলে এম্বার এলার্ট হয়। সবার মোবাইলে চলে যায়, টিভি, রেডিও বিলবোর্ড সব জায়গায় প্রকাশ করা হয় যে এই শিশু মিসিং বা অপহরণ করা হয়েছে। তখন কেউ শিশুকে দেখে থাকলে পুলিশ বা এম্বার এলার্টে কল করে এরপর শিশুটি উদ্ধার হয়। আগে আমাদের কোনো প্লাটফর্ম ছিল না, তবে এখন মুন এলার্ট যেই একটি সংগঠন দাড়িয়েছে, এর মাধ্যমে আমরা নিখোঁজ শিশুদের জন্য কাজ করছি।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (রাজধানী রিপোর্টার্স ইউনিট), সিলেট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শফিকুল ইসলাম (জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি), মো. সাদাত রহমান (জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা, ১৩ জানুয়ারি, ১৭ হাজার ৮০৮টি, ১৬ হাজার ৪১৪টি, ২২ হাজার ৫৫০টি, ১৫ হাজার ৭১৭টি, ২ হাজার ৩৮
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!