📌 পিরোজপুরের নাপিতখালী সেতু নির্মাণে পাইলিং বন্ধ থাকায় কাজ ছয় মাস ধরে স্থবির। ঠিকাদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের অগ্রগতির তথ্য ভিন্ন। স্থানীয়রা দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন
পিরোজপুরের নাপিতখালী এলাকায় নির্মাণাধীন ২২ কোটি টাকার সেতুতে পাইলিং কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণকাজ ছয় মাস ধরে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ শুরু হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। সেতুটি নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ১৭ মাসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্মাণকাজের সময়সীমা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পিরোজপুরের নাপিতখালী সেতুতে পাইলিং বন্ধ থাকায় নির্মাণকাজ ছয় মাস ধরে স্থবির
- 📌 ঠিকাদার দাবি: পুরো কাজ শেষ হতে আরও দুই বছর লাগতে পারে
- 📌 সরকারি কর্মকর্তা দাবি: ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে
- 📌 পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
- 📌 জমি অধিগ্রহণের বরাদ্দ না থাকায় কাজে বিলম্ব
- 📌 সেতুর দৈর্ঘ্য ৭৯.৪২ মিটার, ৬৮টি পাইলের মধ্যে ৪৮টি স্থাপন করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
নাপিতখালী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেনি। সেতুটি নির্মাণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ১৭ মাস, কিন্তু নির্মাণকাজের বিলম্বের কারণে এখনও সেতুটি চালু হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল জানান, ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাস্তবায়িত কাজের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্সের প্রতিনিধি গৌতম সাহা দাবি করেন, পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে প্রায় পাঁচ মাস কাজ বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, আগামী কালীপূজার পর আবার কাজ শুরু হবে। তবে পুরো কাজ শেষ হতে আরও প্রায় দুই বছর লাগতে পারে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মাসুদ খান জানান, প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের বরাদ্দ নেই। জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করতে সময় লেগেছে। এছাড়া স্রোতের কারণে পাঁচ থেকে ছয় মাস কাজ বন্ধ ছিল। তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মঞ্জু গত ৯ মার্চ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তিনি ঠিকাদার মো. মাসুদ খানকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নির্মাণকাজের বিলম্বের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ শেখ বলেন, দুই-তিন মাস কাজ চলার পর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহেদী সরোয়ার বলেন, উপজেলা থেকে জেলা শহরে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু। প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন পুরোনো সেতু দিয়ে চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
"পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে প্রায় পাঁচ মাস কাজ বন্ধ ছিল। আগামী কালীপূজার পর আবার কাজ শুরু হবে। সেতুর ৬৮টি পাইলের মধ্যে ৪৮টি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি পাইলগুলো পর্যায়ক্রমে বসানো হবে। তবে পুরো কাজ শেষ হতে আরও প্রায় দুই বছর লাগতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাপিতখালী, পিরোজপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গৌতম সাহা, মো. মাসুদ খান, ফরিদ শেখ, মোহেদী সরোয়ার, আহম্মেদ সোহেল মঞ্জু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ কোটি টাকা, ৭৯.৪২ মিটার, ৬৮টি পাইল, ৪৮টি পাইল স্থাপন করা, ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!