📌 কৃষি মন্ত্রণালয় সাংসদীয় কমিটিকে জানায়, চলতি বছরে সার সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু নির্বাচনী এলাকায় কৃষকদের সার সংকটের অভিযোগ উঠেছে। কমিটির সদস্যরা বলেছেন, অনেক এলাকায় সার পাচার ও ডিলারদের অপচলনই সংকটের মূল কারণ
সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, চলতি অর্থবছরে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, তাদের নির্বাচনী এলাকায় সারের সংকটের অভিযোগ রয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, জুলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার টন সার বিতরণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৮ লাখ ৫০০ টন সারের চাহিদা পূরণে চলতি অর্থবছরে ১২ লাখ ১৯ হাজার টন সার বিতরণ করা হয়েছে (জুলাই-১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)।
- 📌 ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মজুত রয়েছে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন সার, যা গত অর্থবছরের ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টন থেকে বেশি।
- 📌 কমিটির অন্তত তিন সদস্য অভিযোগ করেছেন, তাদের এলাকায় সারের সংকট রয়েছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না।
- 📌 চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকায় সার সংকট নেই, কিন্তু নওগাঁ ও রাজশাহী এলাকায় কিছুটা সংকট রয়েছে বলে জানানো হয়।
- 📌 সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
- 📌 বৈঠকে আলোচিত বিষয়: সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা, কৃষক প্রশিক্ষণ, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, এবং কৃষিতে নতুন গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন।
📰 বিস্তারিত
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সার সরবরাহ ও মজুতের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট সারের চাহিদা ৫৮ লাখ ৫০০ টন। জুলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার টন সার বিতরণ করা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ হিসাবে এই চার ধরনের সারের মজুত রয়েছে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন। গত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মজুত ছিল ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টন। ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের মজুত গত অর্থবছরের তুলনায় বর্তমান বছরে বেশি রয়েছে বলে জানানো হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্যরা সার সরবরাহ ও মজুতের তথ্য তুলে ধরলেও সারসংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কমিটির অন্তত তিন সদস্য অভিযোগ করেন, তাদের নির্বাচনী এলাকায় সারের সংকট রয়েছে। তারা বলেন, অনেক জায়গায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, কিছু সদস্য বলেছেন, তাদের এলাকায় সারের সংকট নেই। বৈঠকে সার ডিলার নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, সারের ডিলার নিয়োগে অত্যন্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, সারের ঘাটতি নেই, তবে কোথাও কোথাও কিছুটা গুজব ছড়িয়ে একটি পক্ষ ও পালিয়ে যাওয়া সার ডিলাররা জল ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট এলাকায় সারের সংকট নেই, কিন্তু নওগাঁ ও রাজশাহী এলাকায় কিছুটা সংকট রয়েছে। বৈঠকে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সংকট থাকলে তা দূর করার পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া ডিলারদের শূন্যস্থান পূরণ এবং ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
"সারের ডিলার নিয়োগে অত্যন্ত স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৬’ জারি করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহাদাত হোসেন সেলিম (কমিটির সভাপতি), মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (কৃষিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৮ লাখ ৫০০ টন (সার চাহিদা), ১২ লাখ ১৯ হাজার টন (বিতরণ), ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন (মজুত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!