📌 পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নাটোরের লালপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ৫০২ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। নদীভাঙনে ৫০টি বাড়ি হারিয়েছে বাসিন্দারা, ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে থাকা সত্ত্বেও চরাঞ্চলে গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
নাটোরের লালপুর উপজেলার চরাঞ্চলে পদ্মা নদীর অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ও নদীভাঙনে বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে থাকা সত্ত্বেও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং নদীভাঙনে ৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে হারিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে লালপুর উপজেলার ৫০২ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৩৫ হেক্টর আখ, ৭ হেক্টর সবজি ও ৬০ হেক্টর ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 নদীভাঙনে বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর চরে ৫০টি বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি হারিয়েছে
- 📌 পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে থাকা সত্ত্বেও ১৫টি চর ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে, গোখাদ্যের সংকটে পড়েছে স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা
- 📌 পদ্মা নদীর ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ মিটার পানি থাকা সত্ত্বেও আগের দিনের তুলনায় ৪ সেন্টিমিটার কমেছে
- 📌 ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের মধ্যে প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নাটোরের লালপুর উপজেলার চরাঞ্চলে বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে থাকা সত্ত্বেও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে নদীভাঙনও ঘটেছে, যার ফলে বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর চরে প্রায় ৫০টি বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ায় অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৫ হেক্টর আখ, ৭ হেক্টর সবজি এবং ৬০ হেক্টর ফলের বাগান রয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ায় তার দুই বিঘা জমির মুলা ও বেগুনের ক্ষেত পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, পানি আরও বাড়লে তার চার বিঘা মুলা ও বেগুনের ক্ষেতও তলিয়ে যাবে।
গোখাদ্যের সংকটে চরাঞ্চলের খামারিরা পানি বৃদ্ধিতে শুধু ফসল নয়, গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন। ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম জানান, বানের পানিতে পুরো চরাঞ্চল ডুবে গেছে। কোথাও ঘাস নেই। ফলে মহিষকে শুকনো ধানের খড় ও পানি খাওয়াতে হচ্ছে।
"পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগের দিনের তুলনায় পানি ৪ সেন্টিমিটার কমেছে।"
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩ মিটার। তিনি বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর এবং নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালপুর উপজেলা, নাটোর; ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্ট, পদ্মা নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. রিফাত করিম (নির্বাহী প্রকৌশলী), মো. আবুল কাশেম (কৃষক), খায়রুল ইসলাম (খামারি), মো. আবীর হোসেন (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০২ হেক্টর (প্লাবিত জমি), ৪৩৫ হেক্টর (আখ ক্ষতিগ্রস্ত), ৭ হেক্টর (সবজি ক্ষতিগ্রস্ত), ৬০ হেক্টর (ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত), ৫০টি (বাড়ি হারানো), ১৫টি (প্লাবিত চর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!