📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রুপের শিকার হয়ে নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে প্রতিবন্ধী লেখিকা মেলিসা ব্লেক শুরু করেন এক বছরের সেলফি প্রচারণা। তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিবাদ ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে সামাজিক আন্দোলন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও চেহারা নিয়ে বিদ্রুপ করা একটি সাধারণ প্রবণতা হলেও নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট মেলিসা ব্লেক তা প্রতিহত করেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে। বিদ্রুপের জবাবে তিনি শুরু করেন এক বছরের সেলফি প্রচারণা, যা পরবর্তীকালে পরিণত হয় সামাজিক আন্দোলনে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রুপের শিকার হয়ে নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে প্রতিবন্ধী লেখিকা মেলিসা ব্লেক শুরু করেন এক বছরের সেলফি প্রচারণা
- 📌 ফ্রিম্যান–শেলডন সিনড্রোম নামক বিরল জেনেটিক অবস্থার কারণে তাঁর মুখমণ্ডলের গঠনে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে
- 📌 ২০১৯ সালে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের পর তাঁর চেহারা নিয়ে শুরু হয় বিদ্রুপ, যা তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে তিনটি সেলফি পোস্ট করতে
- 📌 #MyBestSelfie নামে পরিচিত এই প্রচারণায় যোগ দেন আরও অনেকে, যাঁরা নিজেদের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সাহসী হন
- 📌 ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বই ‘বিউটিফুল পিপল: মাই থার্টিন ট্রুথস অ্যাবাউট ডিজঅ্যাবিলিটি’
📰 বিস্তারিত
২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট মেলিসা ব্লেক তাঁর রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের পর তাঁর চেহারা নিয়ে শুরু হয় বিদ্রুপ। একটি রক্ষণশীল ইউটিউবার তাঁর ছবি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর চেহারা নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিদ্রুপ। কেউ কেউ তাঁকে ‘অতি কুৎসিত’ বলে মন্তব্য করেন। এই বিদ্রুপের জবাবে মেলিসা ব্লেক তিনটি সেলফি পোস্ট করেন। তাঁর এই পদক্ষেপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর অনুসারী বাড়তে থাকে।
মেলিসা ব্লেকের জন্ম ১৯৮১ সালে, ফ্রিম্যান–শেলডন সিনড্রোম নামক বিরল জেনেটিক অবস্থার কারণে তাঁর মুখমণ্ডলের গঠনে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আলাদা করে ঘাড় না থাকা এবং হাত–পা ও জয়েন্টের গঠনে জটিলতার কারণে তাঁকে ৪৫ বছর বয়সে ২৬ বারের বেশি অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। তবে তাঁর গল্প শুধু চিকিৎসার গল্প নয়। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি ছিল তাঁর নিজেকে প্রকাশের মাধ্যম। ২০০৫ সালে সাংবাদিকতায় পড়াশোনা শেষ করে তিনি ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
মেলিসা ব্লেকের ব্যক্তিগত প্রতিবাদ ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে সামাজিক আন্দোলনের ভাষা। তিনি শুরু করেন এক বছরের সেলফি প্রচারণা, যেখানে তিনি প্রতিদিন একটি করে সেলফি পোস্ট করেন। তাঁর এই প্রচারণা #MyBestSelfie নামে পরিচিতি লাভ করে। আরও অনেকে এই প্রচারণায় যোগ দেন, যাঁরা নিজেদের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সাহসী হন। মেলিসা বলেন, অ্যাবলিজম বা প্রতিবন্ধীবিদ্বেষী ধারণা বদলাতে হলে প্রতিবন্ধী মানুষকে দৃশ্যমান হতেই হবে।
তাঁর প্রচারণা থেমে থাকেনি। ২০২০ সালে টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ‘নিউ টিচার চ্যালেঞ্জ’–এ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ছবি শিশুদের ভয় দেখানোর উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মেলিসার ছবিও এর শিকার হয়। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের ছবি শিশুদের ভয় দেখানোর উপকরণ বানানো নিছক মজা নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন চেহারার মানুষকে ‘স্বাভাবিক’–এর বাইরে একটা ‘বীভৎস ভয়ের ব্যাপার’ হিসেবে জনপ্রিয় করে তোলা।
২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বই ‘বিউটিফুল পিপল: মাই থার্টিন ট্রুথস অ্যাবাউট ডিজঅ্যাবিলিটি’। এতে তিনি প্রতিবন্ধিতা, অ্যাবলিজম, আত্মচিত্র ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রতিবন্ধী মানুষের অনুপস্থিতি নিয়ে লেখেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে সব সময় হয় করুণার পাত্র, নয়তো ‘অসাধারণ নায়ক’ হিসেবে দেখানো হয়?
"আমি কেমন দেখতে, তা নিয়ে আপনার মত থাকতে পারে। কিন্তু আমি দৃশ্যমান হব কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেলিসা ব্লেক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ বছর, ২৬ বার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!