📌 সাত মাস আগে হার্ট অ্যাটাকে স্বামী হারানোর পর বিধ্বস্ত নীরা এক রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মৃত স্বামীর ব্যবহৃত ফোন খুঁজে পান। ফোনে সংরক্ষিত নোটগুলো তাদের বারো বছরের বিবাহিত জীবনের অজানা সত্যগুলো উন্মোচন করে
ঢাকার এক সন্ধ্যায় নভেম্বরের অসময়ে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির সিগারেট ধরানোর দৃশ্য দেখে নীরার মনে পড়ে যায় আরমানের কথা। বারো বছরের দাম্পত্য জীবনে একসময় কথা হারিয়ে যাওয়া দুই মানুষের সম্পর্কের শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছিল নীরা আর আরমান। মৃত্যু তাদের মাঝের দেয়ালটাকে আরও পুরু করে তুলেছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বামী আরমানের মৃত্যুর সাত মাস পর নীরা মৃত স্বামীর ব্যবহৃত ফোন খুঁজে পান
- 📌 ফোনে সংরক্ষিত ২৭টি নোট তাদের বিবাহিত জীবনের অজানা সত্যগুলো উন্মোচন করে
- 📌 বারো বছরের দাম্পত্য জীবনে সম্পর্কের অবনতির চিত্র ফুটে ওঠে নোটগুলোতে
- 📌 আরমানের মৃত্যু হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর বয়সে অফিসের ডেস্কে হার্ট অ্যাটাকের মাধ্যমে
- 📌 ফোন খোলার জন্য পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয় নীরার জন্মদিন
📰 বিস্তারিত
নীরার স্বামী আরমান মারা যান সাত মাস আগে হার্ট অ্যাটাকে। অফিসের ডেস্কে মাথা রেখে বসা অবস্থায় মৃত্যু এসেছিল তার জীবনে। মৃত্যু এতটাই সাধারণভাবে এসেছিল যে সহকর্মীরা প্রথমে ভেবেছিলেন তিনি ঘুমিয়ে আছেন। আরমানের মৃত্যু হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর বয়সে। তাদের বারো বছরের দাম্পত্য জীবনে একসময় কথা হারিয়ে যেতে শুরু করেছিল। প্রথমে কথা কমে আসে, তারপর স্পর্শ, তারপর ঝগড়া। সবশেষে কমে আসে অভিযোগ। মানুষ ভাবে সম্পর্কের সবচেয়ে বিপজ্জনক শব্দ হলো 'ঘৃণা', আসলে সবচেয়ে বিপজ্জনক শব্দ হলো 'থাক'।
রাত সাড়ে দশটার দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আইপিএস কাজ না করায় নীরা মোমবাতি খুঁজতে আরমানের ডেস্কের নিচের ড্রয়ারটা খোলেন। সাত মাস ধরে খোলা হয়নি সেই ড্রয়ার। ভেতরে ছিল পুরোনো বিল, কলম, ভাঙা ঘড়ি, কয়েকটা বিজনেস কার্ড আর একটি কালো মুঠোফোন। মৃত মানুষের ব্যবহৃত জিনিস হাতে নেওয়ার অদ্ভুত অনুভূতি হয় নীরার। ফোনটা চার্জে দিলে চালু হয় এবং স্ক্রিনে দেখা যায় নীরার একটি ছবি। কক্সবাজারে তোলা সেই ছবি সম্ভবত তাদের বিয়ের তৃতীয় বছরের।
ফোন খুলতে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হয়। নীরা বিভিন্ন তারিখ চেষ্টা করেন কিন্তু কোনোটাই কাজ করেনি। শেষে নিজের জন্মদিন দেওয়ায় ফোন খুলে যায়। ফোনে তেমন কিছুই ছিল না—পুরোনো ছবি, কিছু মেসেজ আর ই-মেইল। তারপর নীরা খোলেন 'Notes' অ্যাপ। সেখানে ছিল একটি ফোল্ডারের নাম 'N'। ভেতরে ছিল সাতাশটি নোট। প্রথম নোটটির তারিখ ছিল আট বছর আগের।
প্রথম নোটে আরমান লিখেছিলেন, 'আজ নীরা বলল আমি নাকি তাকে আর আগের মতো দেখি না। কীভাবে বোঝাই, আমি এখনো ওর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি? শুধু ও জেগে থাকলে তাকাতে ভয় লাগে। ওর চোখে আজকাল আমার জন্য অনেক প্রশ্ন। সব প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই।' দ্বিতীয় নোটে লেখা ছিল, 'আজ আমাদের খুব ঝগড়া হলো। নীরা বলল, আমি নাকি পাথরের মতো হয়ে গেছি। উদাসীন, অনুভূতিহীন।' আরেকটি নোটে তিনি লিখেছিলেন, 'আজ ওকে জড়িয়ে ধরতে গিয়েছিলাম। ও শক্ত হয়ে গেল। ছেড়ে দিলাম। মানুষকে ভালোবাসলেই তাকে জোর করে ধরে রাখার অধিকার পাওয়া যায় না।'
নীরার আঙুল কাঁপতে শুরু করে। তিনি একের পর এক নোট পড়তে থাকেন। তাদের বারো বছরের সংসারের আরেকটি সংস্করণ যেন ফোনটার মধ্যে লেখা ছিল। একই ঘটনা কিন্তু অন্য একজনের চোখ দিয়ে দেখা। যে রাত নীরা ভেবেছিলেন আরমান উদাসীন ছিলেন, সেই রাতে আরমান লিখেছিলেন, 'ও কাঁদছিল। কাছে যেতে পারিনি। ভয় হচ্ছিল, আমার হাত সরিয়ে দেবে।' যেদিন নীরা বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন, আরমান লিখেছিলেন, 'বাসাটা আজ অস্বাভাবিক শান্ত। এত দিন নিরিবিলিতে একাকী থাকতে চাইতাম। আজ বুঝলাম, একাকিত্ব কখনই সুখের নয়।'
"আমি আমার স্ত্রীকে অনেকদিন ধরে ঠিকভাবে ভালোবাসতে পারছি না। তাই বলে ওর প্রতি বিশ্বাস ঘাতকতা করার অধিকারও আমার নেই।"
একটি নোটে আরমান লিখেছিলেন, 'আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা আমরা একে অপরকে হারানোর ভয় পাই, কিন্তু সেটা বলি না। ভয়কে অহংকারের জামা পরিয়ে রাখি।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা ও কক্সবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নীরা ও আরমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ মাস, ৪৩ বছর, ১২ বছর, ২৭টি নোট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!