📌 মতলব দক্ষিণ উপজেলার কলেজছাত্র নাজিম অটোরিকশা চালিয়ে নিজের পড়াশোনা ও পরিবারের ভরণপোষণ চালাচ্ছেন। দুই লাখ টাকা ঋণ করে কেনা অটোরিকশা থেকে দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন তিনি। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে অটোরিকশা চালানো এই তরুণ বলেন, 'লেখাপড়া চালিয়ে যাব, ভালো চাকরি করব।'
মতলব দক্ষিণ উপজেলার কলেজছাত্র নাজিম প্রধান (১৮) অটোরিকশা চালিয়ে নিজের পড়াশোনা ও পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। দুপুরের পর কলেজ শেষ করে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন এবং রাত পর্যন্ত যাত্রী বহন করেন। শুক্র ও শনিবার সকাল থেকেই তিনি অটোরিকশা চালান। তাঁর আয় থেকে সংসারের খরচ, পড়াশোনার ব্যয় এবং অটোরিকশা কেনার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মতলব সরকারি কলেজের বিএম শাখায় একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত নাজিম প্রধান (১৮)
- 📌 দুই লাখ টাকা ঋণ করে এক বছর আগে অটোরিকশা কেনেন তিনি
- 📌 অটোরিকশা চালিয়ে দৈনিক গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করেন
- 📌 প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন
- 📌 পরিবারের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ
📰 বিস্তারিত
গত বছর মতলব দক্ষিণ উপজেলার বোয়ালিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ–৩ পেয়ে এসএসসি পাস করেন নাজিম। এরপর মতলব সরকারি কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখায় ভর্তি হন তিনি। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশা কেনেন তিনি। এখন অটোরিকশাই তাঁর পড়াশোনা ও সংসারের প্রধান ভরসা।
গত সোমবার বিকেলে মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরের টিঅ্যান্ডটি এলাকায় অটোরিকশা থেকে যাত্রী নামিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নাজিম। তাঁর বাড়ি উপজেলার উত্তর দিঘলদী গ্রামে। তাঁর বাবা ওসমান গণি ও মা কুলসুমা বেগম। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। মা–বাবা দুজনই বৃদ্ধ ও অসুস্থ। পরিবারের কোনো পৈতৃক জমিজমা নেই। তাঁর বড় ভাই নাজমুল হোসেন বিবাহিত এবং দিনমজুরি করে নিজের সংসার চালান। তিন বোনের মধ্যে দুজনের বিয়ে হয়েছে। ছোট বোন মানসিকভাবে অসুস্থ।
কলেজে ভর্তি হওয়ার পর নাজিমের সামনে আসে পড়াশোনার খরচ। তিনি বলেন, অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয় তাঁর। এই আয় থেকেই সংসারের খরচ ও নিজের পড়াশোনার ব্যয় মেটান। সেই আয় থেকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকার ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করেন তিনি। কলেজ খোলা থাকলে দুপুর পর্যন্ত ক্লাস করেন নাজিম। এরপর অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। যাত্রী নিয়ে ঘুরে ঘুরে রাত ১০টা পর্যন্ত অটোরিকশা চালান। বাড়ি ফিরে আবার বসেন পড়ার টেবিলে।
‘অটো নিয়া হারা জীবন পইড়া থায়ুম না, লেখাপড়াটা চালামু। উচ্চশিক্ষিত হমু। ভালো একটা চাকরি নিমু। সংসারের অভাব ভালোভাবে ঘুচামু। বাবা–মায়ের মুখে হাসি ফুটামু।’
কলেজের শিক্ষকেরা নাজিমের এই সংগ্রামের কথা জানেন। মতলব সরকারি কলেজের বিএম শাখার প্রভাষক বিপুল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘নিয়মিত ক্লাসে আসে। খুবই বিনয়ী। অটোরিকশা চালিয়ে যেভাবে নিজের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালাচ্ছে, তা তাঁর অদম্য মানসিকতার প্রকাশ।’ মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম নাজিমকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মতলব দক্ষিণ উপজেলা, চাঁদপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজিম প্রধান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ বছর, জিপিএ–৩, ৭০০-৮০০ টাকা, ৩ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!