📌 চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সরকারি ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ অধীনে ২০০ উপকারভোগীকে ৪০০ ছাগল বিতরণের সরকারি দাবির বিপরীতে মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে ব্যাপক অনিয়ম। উপকারভোগীদের নামে জাল স্বাক্ষর, ছাগলের মৃত্যু এবং নগদ অর্থ বিতরণের কোনো প্রমাণ না থাকায় প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সরকারি ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ অধীনে দুই দফায় মোট ২০০ উপকারভোগীকে ৪০০ ছাগল বিতরণের সরকারি নথির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্পের মাস্টাররোলে উল্লেখিত উপকারভোগীদের অনেকেই স্বাক্ষর করেননি। এমনকি বিতরণের এক সপ্তাহের মধ্যেই বেশ কয়েকটি ছাগল মারা গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকারি নথিতে ২০০ উপকারভোগীর নামে ৪০০ ছাগলসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণের তথ্য রয়েছে।
- 📌 উপকারভোগীদের নামে মাস্টাররোলে জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
- 📌 প্রথম পর্যায়ে প্রত্যেক উপকারভোগীকে দুটি ছাগলসহ ২৫ কেজি খাদ্য ও ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল।
- 📌 দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১০০ উপকারভোগীকে দুটি ছাগল, ৫০ কেজি খাদ্য, ফ্লোর ম্যাট, সিআই শিট ও কংক্রিট পিলার দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
- 📌 ছাগল বিতরণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা প্রদানের নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 উপকারভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের নামে জাল স্বাক্ষর করা হয়েছে এবং ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে মারা গেছে।
- 📌 প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর দাবি করেছেন, নগদ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হয়নি, তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দাবি করেছেন প্রকল্পটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সরকারি নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ অধীনে দুই দফায় মোট ২০০ উপকারভোগীকে ৪০০ ছাগল বিতরণের তথ্য রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০০ উপকারভোগীকে দুটি করে ছাগল, ২৫ কেজি খাদ্য, পাঁচটি ফ্লোর ম্যাট ও ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১০০ উপকারভোগীকে দুটি ছাগল, ৫০ কেজি খাদ্য, পাঁচটি ফ্লোর ম্যাট, দুটি সিআই শিট ও চারটি কংক্রিট পিলার দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্পের মাস্টাররোলে উল্লেখিত উপকারভোগীদের অনেকেই স্বাক্ষর করেননি। লালমতি ত্রিপুরা, ললিন্দ্র ত্রিপুরা, কাঞ্চন কুমার ত্রিপুরা, মজিব ত্রিপুরা, সশিন্দ্র ত্রিপুরা, মাধুরী ত্রিপুরা, কাঞ্চন মালা ত্রিপুরা, নিরেন্দ্র ত্রিপুরা, সোনালক্ষ্মী ত্রিপুরা, সংগ্রাম ত্রিপুরা, শিবু কুমার ত্রিপুরা, মনিবালা ত্রিপুরা ও চাকষী ত্রিপুরা জানান, তাঁদের নামে মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করা হয়েছে, কিন্তু তাঁরা নিজেরা স্বাক্ষর করেননি।
প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ছাগল বিতরণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পিপিআর টিকা প্রদানের কথা থাকলেও অনুসন্ধানে অভিযোগ পাওয়া গেছে, নিয়ম না মানার মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে ছাগলগুলো বিতরণ করা হয়েছে। এমনকি প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষরিত কার্যাদেশের কপি হাতে পাওয়ার আগেই নিয়মবহির্ভূতভাবে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রথম পর্যায়ে প্রত্যেক উপকারভোগীকে পাঁচটি করে ফ্লোর ম্যাট দেওয়ার কথা থাকলেও সরেজমিন যাচাই করা অধিকাংশ উপকারভোগী তা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া প্রথম পর্যায়ে প্রত্যেক উপকারভোগীকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
‘২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তার বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে অর্থ বিতরণ করা হয়নি।’ — থোয়াইংনিং মার্মা, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর
‘প্রকল্পের সব উপকরণ ও অর্থ উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, প্রকল্পটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’ — ডা. আবদুল মমিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লালমতি ত্রিপুরা, ললিন্দ্র ত্রিপুরা, ডা. আবদুল মমিন, থোয়াইংনিং মার্মা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ (উপকারভোগী), ৪০০ (ছাগল), ২ হাজার ৫০০ টাকা (নগদ সহায়তা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!