📌 নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৭৫ বিদ্যালয়ের এক বছরের ইন্টারনেট বিল পুরোপুরি পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের নিজস্ব অর্থে ইন্টারনেট চালিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কর্মকর্তা স্বেচ্ছাচারী আচরণ ও হয়রানির অভিযোগও করেছেন তাঁরা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক বছরের ইন্টারনেট বিল পুরোপুরি পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, কর্মকর্তা নিজের মনমতো বিদ্যালয়গুলোকে চার থেকে সাত মাসের বিল দিয়েছেন, যদিও সব বিদ্যালয়ের জন্য ১২ মাসের বিল নির্ধারিত ছিল। ফলে শিক্ষকেরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে ইন্টারনেট চালিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয়ের জন্য ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে এক হাজার টাকা হিসাবে বার্ষিক ইন্টারনেট বিল নির্ধারণ করা হয়
- 📌 কর্মকর্তা ১৩টি বিদ্যালয়কে পুরো ১২ মাসের, সাতটি বিদ্যালয়কে সাত মাসের এবং ১৫৫টি বিদ্যালয়কে চার মাসের বিল পরিশোধ করেছেন
- 📌 বিদ্যালয়প্রতি বার্ষিক বিলের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার টাকা, যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ২১ লাখ টাকা
- 📌 শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে ভাউচার নিয়ে কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছেমতো টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন
- 📌 অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তা স্বেচ্ছাচারী আচরণ ও ঘুষ-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত এবং প্রতিবাদ করলে হয়রানি করা হয়
📰 বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে বার্ষিক ইন্টারনেট বিল বাবদ প্রতি মাসে এক হাজার টাকা হিসাবে মোট ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন নিজের মনমতো বিদ্যালয়গুলোকে চার থেকে সাত মাসের বিল পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়গুলো থেকে গত মে মাসে ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেওয়া হলেও কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম টাকা প্রদান করেছেন।
খয়ের দারোগাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, তিনি ১২ মাসের ইন্টারনেট বিলের ভাউচার জমা দিয়েছিলেন। কর্মকর্তা তাঁকে ভ্যাট কেটে মাত্র ২ হাজার ৪০০ টাকা দিয়েছেন, যদিও তাঁর প্রাপ্য ছিল ৪ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘সব উপজেলায় ১২ মাসের টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখানে শিক্ষা কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছেমতো কম দিয়েছেন।’
পানিয়াল পুকুর খোলাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাপসি বেগম জানান, তাঁদের কাছ থেকে ১২ মাসের ইন্টারনেট বিলের ভাউচার নেওয়া হলেও তাঁরা মাত্র ৩ হাজার ৬০০ টাকা পেয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও এক প্রধান শিক্ষক জানান, তাঁরা প্রতিবাদ করলে কর্মকর্তা তাঁদের হয়রানি করেন এবং ফাইল আটকে রাখেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ড. মাহমুদা খাতুন দাবি করেন, তিনি কোটি টাকার কাজ পরিচালনা করেন এবং ইন্টারনেট বিলের টাকা তিনি নিজে খাননি। তিনি জানান, তাঁর দপ্তর থেকে ১২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয়গুলোকে ব্যবহারের ভিত্তিতে টাকা দেওয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান জানান, শিক্ষকদের ক্ষতি হলে বা অনিয়ম হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে তাঁর দেওয়া উদ্ধৃতিটি অসংলগ্ন হওয়ায় তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
‘আমার দপ্তরে কোটি টাকার কাজ হয়, ইন্টারনেট বিলের টাকা আমি খাইনি। এখান থেকে ১২ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। তা ছাড়া যে বিদ্যালয় যেমন ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে, তেমন টাকা দেওয়া হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কিশোরগঞ্জ উপজেলা, নীলফামারী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মাহমুদা খাতুন (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা), আব্দুল খালেক (প্রধান শিক্ষক), তাপসি বেগম (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৫ (বিদ্যালয়), ২১ লাখ টাকা (মোট বিল), ১২ হাজার টাকা (প্রতি বিদ্যালয়ের বার্ষিক বিল), ৪ মাস ও ৭ মাস (বিল পরিশোধের সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!