📌 জাপানে ভালুকের আক্রমণে মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে মানুষের আবাসস্থলে ভালুকের উপদ্রব বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি এআই, ড্রোন ও রোবট প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে
জাপানে ভালুকের আক্রমণে মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে ভালুকের হামলায় ১৩ জন নিহত ও ২২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। অথচ এর আগের বছরের একই সময়ে মৃত্যু ছিল মাত্র ৩ জন এবং আহতের সংখ্যা ছিল ৮২ জন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাপানে ভালুকের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের, আহত ২২০ জনের বেশি
- 📌 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভালুকদের আবাসস্থল ও মানুষের বসতির মধ্যে সীমানা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে
- 📌 জাপানে ভালুকের সংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার বলে ধারণা করা হয়
- 📌 ভালুক তাড়াতে এআই চালিত ক্যামেরা, ড্রোন ও সৌরশক্তিচালিত রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রে ড্রোন ভালুককে বনে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে
📰 বিস্তারিত
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের গ্রামীণ জনবসতি ক্রমাগত ছোট হয়ে আসার কারণে মানুষের আবাসস্থল ও বনের মধ্যে ফসলি জমির অভাব দেখা দেয়। এসব জমি ভালুকের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করত। এখন সেই প্রতিবন্ধকতা না থাকায় ভালুক সহজেই মানুষের লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এছাড়া বন্য প্রাণী শিকারের ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শিকারির সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভালুকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাপানের হোনশু দ্বীপের ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক লিয়াম অ্যাডকক জানান, অতীতে বসতি ও বনের মধ্যে ফসলি জমিগুলো ভালুকের জন্য দেয়াল হিসেবে কাজ করত। এখন সেসব জমি না থাকায় শহর ও বনের মধ্যকার সীমানা অস্পষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ভালুকদের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা বেড়েছে।
ভালুক তাড়াতে জাপানের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হোকুরিকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি ও হোকুৎসু সংস্থার তৈরি এআই চালিত ক্যামেরা ভালুক শনাক্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা পাঠায়। এর মাধ্যমে ভালুককে বনের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হোক্কাইদোর শিনতোৎসুকাওয়া শহরে বিশেষ ড্রোন পোর্ট থেকে ড্রোন উড়িয়ে ভালুককে পর্যবেক্ষণ করা হয়। লোকালয়ে ভালুক দেখার ১০ মিনিটের মধ্যে ড্রোন উড়িয়ে উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত প্রাণীটিকে নজরে রাখা হয়।
"যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রে ড্রোন সফলভাবে ভালুককে লোকালয় থেকে বনে ফিরিয়ে দিয়েছে।"
ভালুক তাড়াতে আরও ব্যবহৃত হচ্ছে সৌরশক্তিচালিত রোবট ‘মনস্টার উলফ’। এটি ভালুককে ভয় দেখিয়ে ফসল রক্ষা করে। রোবটটির মূল্য প্রায় ৪ হাজার ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে শহরাঞ্চলে ভালুকের উপদ্রব বাড়ায় এর বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে। এমনকি ভ্রমণকারী ও ক্যাম্পিংপ্রেমীদের জন্য ‘মনস্টার উলফ মিনি’ নামের একটি বহনযোগ্য সংস্করণ ২০২৬ সালের শেষের দিকে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাপান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লিয়াম অ্যাডকক (গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন মৃত্যু, ২২০ জনের বেশি আহত, ৫৭ হাজার ভালুক, ৯১ শতাংশ সফলতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!