📌 সরকার নতুন বিধিমালা জারি করেছে ই-রিকশার চলাচলের জন্য। ঢাকা ও অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোথায় চলবে, কোথায় নিষিদ্ধ, সর্বোচ্চ গতি কত হবে, চালক ও রিকশার নিবন্ধনের শর্তসহ সব নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে
সরকার দেশের সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করেছে। এই বিধিমালায় সড়ক নির্বাচন, সর্বোচ্চ গতি, যাত্রী ধারণক্ষমতা, চালক ও রিকশার নিবন্ধনের শর্তসহ সবকিছু স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ গতকাল ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে, যা বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **নিষিদ্ধ এলাকা**: জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক ও কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে না। ফুটপাতেও চলাচল নিষিদ্ধ।
- 📌 **গতি সীমা**: সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার গতি, স্কুল/হাসপাতাল এলাকায় ১৫ কিলোমিটার।
- 📌 **যাত্রী সীমা**: চালক ছাড়া সর্বোচ্চ ২ বা ৪ জন যাত্রী নেওয়া যাবে। বাণিজ্যিক পণ্য বহন নিষিদ্ধ।
- 📌 **চালক যোগ্যতা**: ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক। অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি নিবন্ধন পাবে না।
- 📌 **নিবন্ধন প্রক্রিয়া**: জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ আবেদন করতে হবে। নিবন্ধন মেয়াদ ৫ বছর, ইকোনমিক লাইফটাইম ১২ বছর।
- 📌 **রুট নিয়ন্ত্রণ**: সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে জোনভিত্তিক রুট নির্ধারণ করবে। এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না।
📰 বিস্তারিত
বিধিমালা অনুযায়ী, ঢাকা ও অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ১২ পৃষ্ঠার এই বিধিমালা কার্যকর হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো সড়কে ই-রিকশা চলবে কোথায় চলবে না তা নির্ধারণ করবে সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে। ঢাকার নির্দিষ্ট সড়ক তালিকা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি, তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো নির্ধারণ করা হবে।
চালকদের জন্য নতুন নিয়মের মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ গতি সীমা। সাধারণ এলাকায় ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার, কিন্তু স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় স্থানের মতো জনবহুল এলাকায় গতি সীমা কমিয়ে ১৫ কিলোমিটার রাখা হয়েছে। এছাড়া, চালকদের ফোন ব্যবহার, লেন পরিবর্তন বা ওভারটেক করার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য চালকদের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী হতে হবে এবং বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। আবেদন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং নিবন্ধন ফি জমা দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন প্রদান করবে। প্রতিটি ই-রিকশাকে কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বরপ্লেট দেওয়া হবে, যা ৫ বছরের জন্য বৈধ থাকবে।
বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি ই-রিকশা বুয়েটের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। এতে স্পিডোমিটার ও ওডোমিটার স্থাপন করা বাধ্যতামূলক। ই-রিকশার ইকোনমিক লাইফটাইম ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মেয়াদ শেষ হলে নম্বরপ্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদও ৫ বছর। বর্তমান রিকশাগুলোও বুয়েটের মানদণ্ড অনুযায়ী সংশোধন করে অনুমোদন নিতে হবে।
"বিধিমালায় ঢাকার কোনো নির্দিষ্ট সড়কে ই-রিকশা চলবে কোথায় চলবে না তা স্পষ্টভাবে তালিকা দেওয়া হয়নি। এই তালিকা নির্ধারণের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা ও অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: চালক ও যাত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ পৃষ্ঠা, ৭ ধারা, ২৫ কিমি, ১৫ কিমি, ৪০ ডেসিবেল, ১৮ বছর, ৩০ কার্যদিবস, ১২ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!