📌 ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘ নয় বছর ধরে জলাবদ্ধতার শিকার নয়টি গ্রামের দুই হাজার পরিবারের জন্য খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন এমপি মুহাম্মদুল্লাহ। গলাপানিতে নেমে তিনি নিজে কচুরিপানা অপসারণ করেন এবং এলাকাবাসীকে উৎসাহিত করেন
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালের কচুরিপানা পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নয় বছর ধরে জলাবদ্ধতার শিকার নয়টি গ্রামের দুই হাজার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ে নিজেই গলাপানিতে নেমে খালের কচুরিপানা অপসারণ করেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাল পরিষ্কারের জন্য এমপি মুহাম্মদুল্লাহ নিজে গলাপানিতে নামেন এবং এলাকাবাসীকে উৎসাহিত করেন
- 📌 কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে সাত-আট বছর ধরে পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় নয়টি গ্রামের দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে
- 📌 এমপি ঘোষণা দেন ব্যক্তিমালিকানাধীন বাধা সৃষ্টিকারী জমি তিনি নিজে কিনে নিয়ে খালটি পুনর্খননের ব্যবস্থা করবেন
- 📌 খালের কচুরিপানা অপসারণের ফলে ইতোমধ্যেই পানি প্রবাহ শুরু হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা
📰 বিস্তারিত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিল থেকে উৎপন্ন পানি পঙ্গুয়াই খাল হয়ে কাকনী খালে প্রবাহিত হতো। পরবর্তীতে সেই পানি দিয়ারা নদীতে মিলিত হতো। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির দাবিকৃত জমির কারণে সাত-আট বছর ধরে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত কচুরিপানা জমে পঙ্গুয়াই খালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এই জলাবদ্ধতার কারণে দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী—মোট নয়টি গ্রামের দুই হাজার পরিবারের ফসলি জমি ও বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে থাকে। পঙ্গুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তাঁদের শত শত একর ফসলি জমি বছরের পর বছর পানির নিচে তলিয়ে থাকত।
এমপি মুহাম্মদুল্লাহ নিজে খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। শতাধিক মানুষ তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। একই গ্রামের মোশাররফ হোসেন জানান, জলাবদ্ধতার কথা এমপিকে জানানোর পর তিনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আজ তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীকে উৎসাহিত করেন এবং খাল পরিষ্কারে অংশগ্রহণ করেন।
"একসময় দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি ছিল খালগুলো। কিন্তু এখন বেদখল, ভরাট ও কচুরিপানার স্তূপে নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। শুধু সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খালগুলো সচল করতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও বেগবান হবে।"
তিনি আরও ঘোষণা দেন, খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানকার জমি তিনি নিজে কিনে নিয়ে খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনবেন। স্থানীয়রা জানান, খালটি পুনর্খননের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তারাকান্দা, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুহাম্মদুল্লাহ (সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-২)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: নয় বছর, দুই হাজার পরিবার, নয়টি গ্রাম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!