📌 মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে মামলায় ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। আন্দোলনকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে
মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতার অভিযোগে পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার তিনটি পৃথক মামলায় ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) মিরপুর-১২ ও মিরপুর-১০ এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন পল্লবী থানার একটি মামলায়, সাতজন আরেকটি মামলায় এবং ছয়জন মিরপুর মডেল থানার মামলায় জড়িত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
- 📌 পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৩ জন, বিস্ফোরক আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী ৭ জন এবং মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- 📌 গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ১৮ বছর বয়সী মো. নাহিদ হাসান এবং সর্ববয়স্ক ৩৮ বছর বয়সী মাহবুবুর রহমান জুয়েল।
- 📌 আন্দোলনকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
- 📌 মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনকালে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুরের ঘটনায় নারী পুলিশ সদস্য সামিয়া আহত হন।
📰 বিস্তারিত
২ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ও কালাম উদ্দিনের পৃথক আদালত শুনানি শেষে ২৬ জন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এসআই রফিকুল ইসলাম ও এসআই আবু বক্কর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পল্লবী থানায় করা একটি মামলায় ১৩ জন, আরেকটি মামলায় সাতজন এবং মিরপুর মডেল থানায় করা মামলায় ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মিরপুর-১২ এলাকায় গত ১ নভেম্বর পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে একদল ব্যক্তি পুলিশের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের একটি সরকারি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ এবং পেট্রলভর্তি দু’টি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করা হয়।
মিরপুর-১০ এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় অভিযোগ করা হয়, গত ১ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অন্তত চারটি পোশাক কারখানাসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। তাদের মধ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শ্রমিকদের বেতনসংক্রান্ত বিষয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে মিরপুর-১০ এলাকার একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত নারী পুলিশ সদস্য সামিয়া আহত হন।
"আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের মামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১২, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ওলিউল্লাহ অনিক, মো. কামাল গাজী, মো. আরিফ আকন্দ, মো. সজীব শেখ, পুলিশ সদস্য সামিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ জন কারাগারে পাঠানো, ১৩ জন পল্লবী থানায়, ৭ জন বিস্ফোরক আইন মামলায়, ৬ জন মিরপুর মডেল থানায়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!