📌 মেট্রো রেলের নতুন দুই লাইন নির্মাণে ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উঠে এসেছে, যা প্রাথমিক প্রাক্কলনের চেয়ে শতভাগ বেশি। প্রকল্পে জাপানি ঋণ ও ঠিকাদারদের অপারগতা দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার যানজট সমাধানে মেট্রো দরকার, কিন্তু অতিমূল্যায়িত প্রকল্পের বোঝা ভোগতে হবে কি?
মেট্রো রেল প্রকল্পে অতিমূল্যায়নের ফাঁদ থেকে ঢাকার জন্য কি আর কোনো রাস্তা নেই? সরকারের নতুন দুই মেট্রোলাইনের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা প্রাথমিক প্রাক্কলনের ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তুলনায় শতভাগের বেশি। প্রকল্পের কারিগরি কমিটি এই ব্যয় বৃদ্ধিকে যৌক্তিক বলে মনে করলেও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন: ঢাকার জন্য এই অতিমূল্যায়িত প্রকল্পের বোঝা কখনোই শোধযোগ্য হবে কি?
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা** ব্যয়ে নির্মাণের কথা নতুন দুই মেট্রোলাইনের, যা প্রাথমিক প্রাক্কলনের চেয়ে **১০০% বেশি**!
- 📌 **প্রতি কিলোমিটার ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা** ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশের এলিভেটেড এমআরটি লাইন ৬, যেখানে **দিল্লি মেট্রো প্রতি কিলোমিটার ৩০০ কোটি টাকায়** নির্মিত হয়েছিল!
- 📌 **পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ** প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার **২৩২ কোটি টাকা** ব্যয় হলেও, **চীন** নিজ দেশে **২৫০ কিলোমিটার বেগের রেললাইন** একই দামে নির্মাণ করে!
- 📌 **জাপানি ঋণ** (জাইকা) প্রকল্পে **ঠিকাদার ও পরামর্শকদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ** এবং **নকশা পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধি** — এসবই দায়ী!
- 📌 **মেট্রোরেলের পরিচালনায় কোনো মুনাফা আসবে না**, তাহলে অতিমূল্যায়িত ঋণ কখনো শোধ হবে না!
📰 বিস্তারিত
গত ৩০ আগস্ট প্রথম আলো প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঢাকার নতুন দুই মেট্রোলাইনের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্কলন ছিল মাত্র ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, কাজ শুরু করার আগেই ব্যয় বৃদ্ধির হার শতভাগের বেশি। সরকারের কারিগরি কমিটি এই ব্যয় বৃদ্ধিকে যৌক্তিক বলে মনে করলেও, বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন: এই অতিমূল্যায়নের পেছনে কি আছে?
বাংলাদেশের এলিভেটেড এমআরটি লাইন ৬ নির্মাণে প্রতি কিলোমিটার **১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা** ব্যয় হয়েছে। কিন্তু কাছাকাছি সময়ে নির্মিত **দিল্লি মেট্রো** প্রতি কিলোমিটার মাত্র **৩০০ কোটি টাকায়** নির্মিত হয়েছিল। এছাড়াও, পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার **২৩২ কোটি টাকা** ব্যয় হলেও, চীন নিজ দেশে **ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগের উচ্চগতির রেললাইন** একই দামে নির্মাণ করে। এসব তুলনা থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বাংলাদেশের প্রকল্পে অতিমূল্যায়নের হাত!
মেট্রোরেল প্রকল্পে জাপানি ঋণ (জাইকা) ব্যবহৃত হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ঠিকাদার ও পরামর্শকদের মধ্যে **চৌরসন্ধি** বিরাজ করে। নকশা পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে প্রথমে একটি ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল, পরে তা পরিবর্তন করে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল। এমআরটি-৬ প্রকল্পেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, জাইকার ঋণের শর্তাবলীতে এমন পদ্ধতি উল্লেখ করা থাকে, যা **জাপানি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যরা পূরণ করতে পারে না**।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী **শেখ রবিউল আলম** বলেছেন, মেট্রোরেল দরকার, নাহলে ঢাকা বাঁচানো যাবে না। তবে প্রশ্ন উঠে, ‘বাঁচানো’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চাইছেন? ঢাকার বাসযোগ্যতা পৃথিবীর মধ্যে **নিকৃষ্টতম**। প্রকল্পের বোঝা ভোগতে হবে কি, বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে কি — এসব প্রশ্ন এখনই উত্তর দিতে হবে!
"আমাদের এলিভেটেড এমআরটি লাইন ৬ নির্মাণে প্রতি কিলোমিটার ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। দিল্লি মেট্রো প্রতি কিলোমিটার ৩০০ কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছিল। এই অতিমূল্যায়ন ঢাকার জন্য কি আর কোনো বিকল্প ছাড়াই নেওয়া হয়েছে?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (মেট্রো রেল প্রকল্প), দিল্লি (তুলনা), চীন (রেল প্রযুক্তি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ রবিউল আলম (স্বাস্থ্যমন্ত্রী), কারিগরি কমিটি সদস্য
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা (ব্যয়), ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা (প্রাথমিক প্রাক্কলন), ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা (বাংলাদেশের এমআরটি প্রতি কিলোমিটার), ৩০০ কোটি টাকা (দিল্লি মেট্রো প্রতি কিলোমিটার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!