📌 বরিশালের মুলাদীতে আল আমিন হাওলাদার হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কাওসার আকনের বিরুদ্ধে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ‘জামাই আদরে’ রাখার অভিযোগ উঠেছে। বাদী পরিবার জানায়, তিন দিনের রিমান্ডের পর এক রাত থানায় রাখার পরই কারাগারে পাঠানো হয়
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় আল আমিন হাওলাদার হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কাওসার আকনের বিরুদ্ধে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ায় ‘জামাই আদরে’ রাখার অভিযোগ উঠেছে। বাদী পরিবার জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিন দিনের রিমান্ডের পরও আসামিকে মাত্র এক রাত থানায় রাখার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এতে মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিয়ে পরিবারের মধ্যে শঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশালের মুলাদী থানায় আল আমিন হাওলাদার হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাওসার আকনের বিরুদ্ধে ‘জামাই আদরে’ রাখার অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 ৭ সেপ্টেম্বর আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও আসামিকে পরদিন সন্ধ্যায় থানায় এনে এক রাত রাখার পর ৯ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়।
- 📌 বাদী ডালিয়া বেগমের পরিবার জানায়, আসামিকে কোনো সঠিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলে সন্দেহ।
- 📌 মুলাদী থানার ওসি সোহেল রানা দাবি করেন, রিমান্ডের সময়সীমা নিয়ম অনুযায়ী মেনে চলা হয়েছে।
- 📌 হত্যা মামলায় আসামি কাওসার আকন (৩৪) ও আজিজুল সরদার (২৮) প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত।
- 📌 ১৭ মে পাওনা টাকা নিয়ে আল আমিনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
📰 বিস্তারিত
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় আল আমিন হাওলাদার (২৫) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কাওসার আকনের বিরুদ্ধে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ায় ‘জামাই আদরে’ রাখার অভিযোগ উঠেছে। বাদী পরিবার জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হলেও আসামিকে পরদিন সন্ধ্যায় থানায় এনে এক রাত রাখার পর ৯ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এতে মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিয়ে পরিবারের মধ্যে শঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে।
নিহত আল আমিনের মা ও বাদী ডালিয়া বেগমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর বরিশালের আদালত হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাওসার আকনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে ওই দিন তাঁকে থানায় না এনে পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর এক রাত থানায় রাখার পর ৯ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়। ডালিয়া বেগম অভিযোগ করেন, ‘গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালত আমার ছেলে হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি কাওসার আকনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু পুলিশ তাকে ওই দিন থানায় না এনে পরদিন সন্ধ্যায় আনে। মাত্র এক রাত থানায় রেখে গতকাল বুধবার সকালেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হলো। আসামিকে আদৌ কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, নাকি জামাই আদরে রাখা হয়েছিল—তা নিয়ে আমাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে প্রহসনমূলক জিজ্ঞাসাবাদে সত্য উন্মোচিত হবে না। পুলিশ যেভাবে আসামিকে সুবিধা দিচ্ছে, তাতে মামলার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা দাবি করেন, ‘গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালত আসামি কাওসার আকনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নিয়ম অনুযায়ী রিমান্ড মঞ্জুরের দিন থেকেই দিন গণনা শুরু হয়। মেয়াদ শেষে আজ (বুধবার) তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মুলাদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা ও নিয়ম মেনেই আসামিকে থানায় এনে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে সময়মতো আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
হত্যা মামলার পটভূমি জানা যায়, মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের মৃত হানিফ হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদারের (২৫) সঙ্গে মোটরসাইকেল কেনাবেচার পাওনা টাকা নিয়ে স্থানীয় আজিজুল সরদারের বিরোধ ছিল। গত ১৭ মে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আল আমিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে কাওসার আকন (৩৪), আজিজুল সরদারসহ (২৮) কয়েকজন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা আজিজুল সরদারকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
"গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালত আমার ছেলে হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি কাওসার আকনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু পুলিশ তাকে ওই দিন থানায় না এনে পরদিন সন্ধ্যায় আনে। মাত্র এক রাত থানায় রেখে গতকাল বুধবার সকালেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হলো। আসামিকে আদৌ কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, নাকি জামাই আদরে রাখা হয়েছিল—তা নিয়ে আমাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুলাদী উপজেলা, বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডালিয়া বেগম, কাওসার আকন, খন্দকার মো. সোহেল রানা, মো. লিয়াকত আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ সেপ্টেম্বর, ৮ সেপ্টেম্বর, ৯ সেপ্টেম্বর, ২৫ বছর (আল আমিন), ৩৪ বছর (কাওসার আকন), ২৮ বছর (আজিজুল সরদার), ১৭ মে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!