📌 মানিক পশারীর দাফন ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তিন নারী কবর খোঁড়ার তথ্য সঠিক নয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক লোক। স্থানীয় কর্মকর্তা ও পুলিশের সহায়তায় দাফন সম্পন্ন হয়। জামায়াত নেতারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে গার্ড অব অনার প্রতিবাদ করেন
মানিক পশারীর দাফন ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর কবর খোঁড়ার সময় উপস্থিত ছিলেন তিন নারী ছাড়া আরও অনেক লোক। ঘটনাস্থলে কারা ছিলেন এবং কীভাবে দাফন সম্পন্ন হয়, তা নিয়ে স্থানীয়দের বিবরণ প্রকাশ করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য অনুযায়ী কবর খোঁড়ার সময় শুধু তিন নারী উপস্থিত ছিলেন — কিন্তু সত্য হলো, তাদের পাশাপাশি আরও অনেক লোক ছিলেন।
- 📌 মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী দাবি করেছেন, প্রথমে কবর খোঁড়ার সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। পরে কবর ভরাটের হুমকির কারণে তারা চলে যান।
- 📌 রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে পুনরায় কবর খোঁড়া হয়। মতিউর রহমান ও স্থানীয় একজন ব্যক্তি মিলে কবর খোঁড়েন, যেখানে তিন নারী মাটি সরিয়েছিলেন।
- 📌 দাফনের সময় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনজন গ্রামপুলিশ ও স্থানীয় দুই ব্যক্তির সহায়তায় দাফন সম্পন্ন হয়। কোনো নারী উপস্থিত ছিলেন না।
- 📌 জামায়াত নেতারা মানিক পশারীরকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করে গার্ড অব অনার প্রতিবাদ করেন। তবে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা।
- 📌 মানিক পশারীর মৃত্যু হয় ৮৭ বছর বয়সে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আশ্রয়ে ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
মানিক পশারীর দাফন ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় গ্রামপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কবর খোঁড়ার সময় শুধু তিন নারী উপস্থিত ছিলেন না — তাদের পাশাপাশি আরও অনেক লোক ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মতিউর রহমান জানান, কবর খোঁড়ার জন্য সরঞ্জাম নিতে তিনি মানিক পশারীর এক বোনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার বোন ও আরও দুই নারী সরঞ্জাম নিয়ে আসেন। কিন্তু যখন তিনি কবর খোঁড়ার লোক খুঁজছিলেন, তখনই ওই নারীরা মাটি সরিয়ে ফেলেছিলেন। সেই সময়ের ছবিই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ও একজন স্থানীয় ব্যক্তি মিলে কবর খোঁড়েছি। নারীরা সাহায্য করেছেন। কিন্তু তারা একা কবর খোঁড়েননি।’
দাফনের সময় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী দাবি করেন, প্রথমে কবর খোঁড়ার সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। তবে সন্ধ্যার পর কবর ভরাট ও হুমকির ঘটনার পর অনেকে ভয়ে চলে যান। তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের লোকজন এসে বলেছিলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় কবর ভরাট করে দেওয়া হবে।’ তবে জামায়াত নেতারা দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মানিক পশারীরকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিরোধিতা করছি, কিন্তু দাফনে বাধা দিয়েছি না।’
মানিক পশারীর মৃত্যু হয় ৮৭ বছর বয়সে। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মারা যান। দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। পরে বিকেলে পুলিশলাইনে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।
"আমি ও একজন স্থানীয় ব্যক্তি মিলে কবর খোঁড়েছি। নারীরা সাহায্য করেছেন, কিন্তু তারা একা কবর খোঁড়েননি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ ভুল।"
"জামায়াত-শিবিরের লোকজন এসে বলেছিলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় কবর ভরাট করে দেওয়া হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পিরোজপুর সদর উপজেলা, শংকরপাশা ইউনিয়ন, চিতলিয়া গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মতিউর রহমান, হেনা পশারী, আব্দুর রাজ্জাক, মাসুদ সাঈদী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৭ বছর (বয়স), ২৪ অক্টোবর (মৃত্যু তারিখ), ১১টা-১২টা (কবর খোঁড়ার সময়), ১টা ২০ মিনিট (দাফন সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!