📌 পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় বরফকলগুলো অচল হয়ে পড়ায় জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। বরফের অভাবে ট্রলারে মাছ সংরক্ষণ করতে না পারায় জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রায় এক লাখ মানুষ।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দরে সারি সারি ট্রলার বাঁধা পড়ে আছে। লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় বরফকলগুলো অচল হয়ে পড়ায় জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। ট্রলারে মাছ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বরফ সংগ্রহ করতে না পারায় তাঁদের জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লোডশেডিংয়ের কারণে মহিপুর ও আলীপুরের ৩৬টি বরফকল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ
- 📌 জেলে নাসির খানসহ ১৫ জন জেলে ও মাঝিমাল্লার একটি ট্রলারে ৪ দিনের সফরের জন্য প্রয়োজন ১২০টি বরফের ক্যান
- 📌 স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ক্যান বরফ উৎপাদিত হতো, সেখানে এখন উৎপাদন হচ্ছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ
- 📌 আগে দিনে গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার জেলে সাগরে যেতেন, এখন যেতে পারেন মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ জন
- 📌 লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৬৫ শতাংশ
📰 বিস্তারিত
কলাপাড়া উপজেলার আন্ধারমানিক নদের ঘাটে ট্রলার নিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন জেলে নাসির খান (৪০)। তাঁর মতো অসংখ্য জেলে ও মাঝিমাল্লা সাগরে যেতে পারছেন না লোডশেডিংয়ের কারণে। ট্রলারে মাছ ধরার পর সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বরফ সংগ্রহ করতে না পারায় তাঁদের সাগরে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। জেলে নাসির খান বলেন, তাঁদের ট্রলারে ১৫ জন জেলে ও মাঝিমাল্লা রয়েছেন। ৪ দিনের সফরের জন্য তাঁদের প্রয়োজন ১২০টি বরফের ক্যান। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় বরফকলগুলোতে পর্যাপ্ত বরফ পাওয়া যাচ্ছে না।
বরফের প্রতিটি ক্যান আগে যেখানে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। জেলেরা জানান, আগাম অনুরোধ করেও পর্যাপ্ত বরফ সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাঁরা বলেন, ১৮ হাজার টাকার বরফ এখন কিনতে হচ্ছে ৩৬ হাজার টাকায়। ফলে সাগরে দ্বিগুণ মাছ ধরলেও তাঁদের লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৬৫ শতাংশ। মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দরে অবস্থিত ৩৬টি বরফকল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। কোনো কোনো বরফকল দিনে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ক্যান বরফ উৎপাদন করতে পারছে। আবার কোনো কোনোটি সর্বোচ্চ ২০০ ক্যান পর্যন্ত উৎপাদন করছে।
মহিপুর মৎস্যবন্দর ও আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, ইলিশ মৌসুমে মহিপুর-আলীপুর বন্দর থেকে গড়ে ২০০টি ট্রলার সাগরে যায়। তবে বরফ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে এখন মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি ট্রলার সাগরে যেতে পারছে। গত ১৫ দিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে বরফকলগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে জেলে, ট্রলারমালিক, আড়তদার, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ এক লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
"ইলিশ মৌসুমে প্রতিদিন মহিপুর-আলীপুর বন্দর থেকে গড়ে ২০০টি ট্রলার সাগরে যায়। এখন বরফ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে ৫০ থেকে ৬০টি, আবার কখনো ৩০টি ট্রলার সাগরে যাচ্ছে। গত ১৫ দিনে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে বরফকলগুলো প্রায় অচল।"
মহিপুর বরফকল মালিক সমিতির সভাপতি গাজী মজনু মিয়া জানান, বরফ তৈরির প্রক্রিয়ায় টানা ১২ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পর দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া বারবার ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিবার উৎপাদন শুরু করতে হচ্ছে প্রথম থেকে, যার ফলে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা, মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলে নাসির খান, সুমন দাস, গাজী মজনু মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ (বরফকল), ১৫ (জেলে ও মাঝিমাল্লা), ১২০ (বরফের ক্যান), ১৩০ (মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা), ৮৫ (মেগাওয়াট সরবরাহ), ৬৫ (শতাংশ সরবরাহ), ৭০ (শতাংশ উৎপাদন কমেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!