📌 মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে আল-মুগাম্মাস উপত্যকায় আবরাহার হস্তীবাহিনী কাবা শরিফ ধ্বংস করার চেষ্টা করলেও মহান আল্লাহর রক্ষাকবচে তাদের পতন ঘটে। ঐতিহাসিক ঘটনাটি 'আমুল ফিল' বা 'হস্তী বর্ষ' নামে পরিচিত
মক্কা নগরী থেকে মাত্র তিন মাইল দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক উপত্যকা আল-মুগাম্মাসে ঘটে যায় এক অলৌকিক ঘটনা। এখানেই কাবা শরিফের রক্ষাকবচ হিসেবে আবরাহার হস্তীবাহিনীর পতন ঘটে। ইয়েমেনের খ্রিষ্টান শাসক আবরাহা (আকসুম সাম্রাজ্যের অধীনে) পবিত্র কাবা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বিশাল বাহিনী ও শক্তিশালী হাতি ‘মাহমুদ’ নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আল-মুগাম্মাস উপত্যকাতে আবরাহার বাহিনী পৌঁছানোর পর পথপ্রদর্শক আবু জুগাল মৃত্যুবরণ করেন এবং তার কবরে পাথর মারা রীতি শুরু হয়।
- 📌 আবরাহা মক্কাবাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসেননি, কেবল কাবা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বাহিনী পাঠান।
- 📌 আবদুল মুত্তালিব (মহানবী (সা.)-এর দাদা) কাবার রক্ষাকবচের কথা না বলেই ২০০টি উট ফেরত পাওয়ার দাবি করেন, যা আবরাহাকে বিস্মিত করে তোলে।
- 📌 হাতি ‘মাহমুদ’ কাবার দিকে এক পা-ও এগোতে অস্বীকৃতি জানায়, লোহার রড ও বড়শি দিয়ে আঘাত করলেও সে সরানো যায়নি।
- 📌 আসমান থেকে নেমে আসা পাখির দল আবরাহার বাহিনীকে ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করে, মুহূর্তের মধ্যে তাদের বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়।
📰 বিস্তারিত
আবরাহা তার অগ্রবর্তী বাহিনীকে মক্কার উপকণ্ঠে পাঠিয়ে তিয়ামাহ ও কুরাইশদের বহু ধন-সম্পদ লুট করেন। এর মধ্যে ছিল কুরাইশপ্রধান ও মহানবী (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিবের ২০০টি উট। আবরাহা মক্কাবাসী বাধা না দিলে কোনো রক্তপাত হবে না বলে বার্তা পাঠান। কিন্তু আবদুল মুত্তালিব কাবার নিরাপত্তার কথা না জানিয়ে কেবল তার আটক হওয়া উট ফেরত চান। তিনি বলেন, ‘আমি উটের মালিক, তাই উট ফেরত চাই। আর এই ঘরের (কাবার) একজন মালিক আছেন, তিনিই এটিকে রক্ষা করবেন।’
পরদিন সকালে আবরাহা তার হাতি ‘মাহমুদ’কে কাবার দিকে মুখ করে দাঁড় করান। কিন্তু হাতিটি হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে এবং কাবার দিকে এক কদমও এগোতে রাজি হয় না। লোহার রড ও বড়শি দিয়ে আঘাত করার পরও হাতিটিকে সরানো যায়নি। বিস্ময়কর বিষয় হলো, হাতিটিকে যখনই ইয়ামেন বা অন্য কোনো দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হতো, সে সানন্দে হেঁটে চলত; কিন্তু কাবার দিকে মুখ করা মাত্রই সে থমকে যেত। এর কিছুক্ষণ পরেই আসমান থেকে নেমে আসে ঐশ্বরিক গজব। সুরা ফিলে উল্লেখিত পাখির দল আবরাহার বাহিনীর ওপর কঙ্কর নিক্ষেপ করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে আবরাহার পরাক্রমশালী বাহিনী চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।
এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে ওই বছরকে ইতিহাসে ‘আমুল ফিল’ বা ‘হস্তী বর্ষ’ বলা হয়। আল-মুগাম্মাস এলাকাটি তৎকালীন কুরাইশদের উট চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখানে পৌঁছানোর পর আবরাহা তার অগ্রবর্তী বাহিনীকে মক্কার উপকণ্ঠে পাঠিয়ে তাদের বহু ধন-সম্পদ লুট করেন।
"আমি উটের মালিক, তাই উট ফেরত চাই। আর এই ঘরের একজন মালিক আছেন, তিনিই এটিকে রক্ষা করবেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আল-মুগাম্মাস উপত্যকা (মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবরাহা, আবদুল মুত্তালিব, আবু জুগাল, হাতি ‘মাহমুদ’
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০টি উট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!