📌 অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত হওয়ায় মামলা জট ক্রমেই বেড়ে চলেছে। জনসংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা একেবারে কম হওয়ায় বিচারকদের ওপর চাপ বাড়ছে। আইনজীবী ও বিচারকেরা বলছেন, বিচারকের সংখ্যা অন্তত ১০ হাজারে উন্নীত না হলে মামলাজট কমবে না।
বাংলাদেশের অধস্তন আদালতগুলোতে বিচারক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশে বর্তমানে অধস্তন আদালতে বিচারক রয়েছেন মাত্র দুই হাজার তিন শত সাতত্রিশ জন। বিভিন্ন কারণে চার শতাধিক বিচারককে আদালতের বিচারকাজ থেকে দূরে থাকতে হয়। ফলে বিচারকাজ পরিচালনা করছেন এক হাজার আট শত সাতত্রিশ জন বিচারক। জনসংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা একেবারে কম হওয়ায় মামলা জট ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অধস্তন আদালতে বিচারকের সংখ্যা দুই হাজার তিন শত সাতত্রিশ জন
- 📌 চার শতাধিক বিচারককে আদালতের বিচারকাজ থেকে দূরে থাকতে হয় বছরের বিভিন্ন সময়ে
- 📌 বিচারকাজ পরিচালনা করছেন এক হাজার আট শত সাতত্রিশ জন বিচারক
- 📌 দেশে জনসংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা একেবারে অপর্যাপ্ত
- 📌 অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ
- 📌 ২০০৮ সালের তুলনায় মামলা বেড়েছে প্রায় ২৬ লাখ
- 📌 বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাজট কমাতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের
📰 বিস্তারিত
সারা দেশের অধস্তন আদালতে বর্তমানে বিচারক রয়েছেন দুই হাজার তিন শত সাতত্রিশ জন। তবে প্রেষণ, মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তি, শিক্ষা ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ বিভিন্ন কারণে চার শতাধিক বিচারককে আদালতের বিচারকাজ থেকে দূরে থাকতে হয়। ফলে বিচারকাজ পরিচালনা করছেন এক হাজার আট শত সাতত্রিশ জন বিচারক। জনসংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা একেবারে কম হওয়ায় মামলা জট ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ছিল প্রায় ৪৮ লাখ মামলা। এর মধ্যে জেলা আদালতে বিচারাধীন ছিল ৪০ লাখ সাতাত্তর হাজার মামলা। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে বিচারাধীন ছিল চৌদ্দ লাখ আটানব্বই হাজার একশত একুশটি মামলা। দেড় যুগে মামলা বেড়েছে প্রায় ছাব্বিশ লাখ।
আইনজীবী ও বিচারকেরা বলছেন, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাজট কমাতে হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে বর্তমান সংখ্যাও অপ্রতুল। অবশ্যই দক্ষ বিচারকের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহজাহান সাজু বলেন, বর্তমানে মামলার যে জট, তা নিষ্পত্তি করতে অধস্তন আদালতে অন্তত দশ হাজার বিচারক প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সহায়ক জনবল, প্রয়োজনীয় অফিস সরঞ্জাম এবং এজলাস। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকেও জোর দিতে হবে।
জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় চার শত বিচারককে নানা কারণে বিচারকাজের বাইরে থাকতে হয়। আর একজন বিচারকের বিপরীতে পাঁচ শতাধিক মামলা থাকলে সহজে নিষ্পত্তি করা যায়। বর্তমানে গড়ে তিন হাজারের বেশি মামলা রয়েছে। এ কারণে ঠিকভাবে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। তাঁর মতে, বিচারকের সংখ্যা দশ হাজার হওয়া উচিত। শুধু বিচারক বাড়ালেই মামলাজট শিগগির কমবে না; এর সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দিকে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে মামলার আগে প্রি-মেডিয়েশন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
"মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোই একমাত্র সমাধান নয়। তবে বর্তমান সংখ্যাও অপ্রতুল। অবশ্যই দক্ষ বিচারকের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ড. শাহজাহান সাজু, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই হাজার তিন শত সাতত্রিশ জন বিচারক, এক হাজার আট শত সাতত্রিশ জন কর্মরত বিচারক, চার শতাধিক অনুপস্থিত বিচারক, প্রায় ৪৮ লাখ বিচারাধীন মামলা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!