📌 জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত আইনের খসড়ায় তদন্ত ক্ষমতা বাহিনীর হাতে দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এতে ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি লঙ্ঘিত হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আরও বিপর্যস্ত হবে
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুমসংক্রান্ত আইনের খসড়ায় তদন্ত ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতে অর্পণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অপরাধীই যদি তদন্তকারী হয়, তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব নয়।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুমসংক্রান্ত আইনের খসড়ায় তদন্ত ক্ষমতা বাহিনীর হাতে দেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন তাজুল ইসলাম
- 📌 প্রস্তাবিত আইনে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীকেই দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তার
- 📌 তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নো ম্যান শ্যাল বি আ জাজ ইন হিজ ওন কজ’ — অর্থাৎ কেউ নিজের মামলার বিচারক হতে পারে না
- 📌 ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইনে কারাদণ্ডের ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন তিনি
- 📌 প্রস্তাবিত আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাজুল ইসলাম
📰 বিস্তারিত
বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুমসংক্রান্ত আইন (খসড়া): প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংলাপে অংশ নিয়ে তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত আইনে তদন্ত ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতে অর্পণের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে। তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিধান কার্যকর হলে ভুক্তভোগী ও বাহিনীর কর্মকর্তা—উভয় পক্ষই ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
তিনি জানান, গুমসংক্রান্ত আইন তৈরির ক্ষেত্রে গুম কমিশন, ভুক্তভোগী, তাঁদের পরিবার, নাগরিক সমাজসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আইনটি তৈরির জন্য ১৭ থেকে ১৮টি অধিবেশনে পর্যালোচনা করা হয়েছিল।’ তবে পরবর্তীতে সেটি সংশোধনের পরিবর্তে নতুন আইনে তদন্ত ক্ষমতা বাহিনীর হাতে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
তাজুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারাই যদি সেই অভিযোগের তদন্ত করে, তবে ন্যায়বিচার কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে? তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইনে কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে ইতোমধ্যেই মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে থাকা পরিবারগুলো আরও ভয় পেয়ে অভিযোগ করতে সাহস পাবে না।
‘নো ম্যান শ্যাল বি আ জাজ ইন হিজ ওন কজ।’ অর্থাৎ কেউ নিজের মামলার বিচারক হতে পারেন না।
তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোও গুম ও জুলাই-আগস্টের সহিংসতার বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিতভাবে সহযোগিতা করছে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আয়নাঘর ও গুমের বিভিন্ন ঘটনায় আদালতে সাক্ষীরা বিস্তারিত তথ্য প্রদান করছেন। তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুমের ঘটনা যেন জাতি ভুলে না যায়।’
প্রস্তাবিত আইনগুলো সংসদে পাস না করে পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাঁরা যেন এই আইনের পক্ষে ভোট না দেন।’ তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তরুণদের আত্মত্যাগের পর এমন আইন করা উচিত নয়, যা আবার গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কারওয়ান বাজার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
- 🔢 অধিবেশন সংখ্যা: ১৭–১৮
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!