📌 বারবার ডায়েট চার্ট পাল্টানোর ফলে ওজন কমছে না, বরং মানসিক চাপ বাড়ছে অনেকেরই। এবার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন ‘ইনটিউটিভ ইটিং’ নামের নতুন জীবনশৈলীর, যা শরীরের প্রাকৃতিক সংকেত অনুযায়ী খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলে
ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে বারবার নতুন ডায়েট চার্ট অনুসরণ করছেন, কিন্তু কোনো স্থায়ী ফল পাচ্ছেন না? ডায়েট শেষ করলেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসছে ওজন, আর তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অপরাধবোধ। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন ‘ইনটিউটিভ ইটিং’ বা ‘সহজাত খাদ্যাভ্যাস’ নামের নতুন জীবনশৈলীর। এটি শরীর ও মনের ভাষা বুঝে খাবার গ্রহণের একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি, যেখানে কোনো খাবারকে ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইনটিউটিভ ইটিং হলো শরীরের প্রাকৃতিক ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত চিনে খাবার খাওয়া
- 📌 এ পদ্ধতিতে ডায়েট চার্টের কড়াকড়ি বা খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে না
- 📌 দ্রুত ওজন কমানোর পরিবর্তে শরীর ও খাবারের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক স্থাপনই মূল লক্ষ্য
- 📌 জীবনে ১০টি মৌলিক নীতি অনুসরণের মাধ্যমে ইনটিউটিভ ইটিং কার্যকর করা যায়
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ইনটিউটিভ ইটিং মানসিক প্রশান্তি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক
📰 বিস্তারিত
বর্তমান সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য মানুষ বারবার নতুন ডায়েট চার্ট অনুসরণ করছেন, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ব্যর্থ হচ্ছে। ডায়েট শেষ করলেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন ‘ইনটিউটিভ ইটিং’ নামের নতুন জীবনশৈলীর। এটি মূলত শরীরের অভ্যন্তরীণ সংকেত অনুযায়ী খাবার গ্রহণের একটি পদ্ধতি, যেখানে কোনো খাবারকে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
ইনটিউটিভ ইটিং অনুসরণ করলে মানুষ নিজের শরীরের ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত চিনতে শেখেন। ফলে তারা যখন ক্ষুধার্ত হন, তখনই খাবার গ্রহণ করেন এবং যখন তৃপ্ত হন, তখনই খাওয়া বন্ধ করেন। এ পদ্ধতিতে দ্রুত ওজন কমানোর কোনো চেষ্টা করা হয় না; বরং শরীর ও খাবারের মধ্যে একটি সুস্থ ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।
এই জীবনশৈলী অনুসরণের জন্য বিশেষজ্ঞরা দশটি মৌলিক নীতির কথা বলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ডায়েট মানসিকতা ত্যাগ করা, ক্ষুধাকে সম্মান জানানো, খাবারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা, ‘খাদ্য পুলিশ’কে থামানো, খাবারের তৃপ্তি চিনতে শেখা, তৃপ্তির অনুভূতি বুঝতে পারা, আবেগকে খাবার দিয়ে ঢাকার প্রবণতা কমানো, নিজের শরীরকে সম্মান করা, আনন্দের জন্য শরীরচর্চা করা এবং নমনীয় পুষ্টিবিধান অনুসরণ করা।
ডা. আফলাতুন আকতার জাহান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর জীবন মানে নিখুঁত ডায়েট অনুসরণ নয়, বরং নিজের শরীরকে বোঝা ও ভালোবাসাই হলো আসল সুস্থতা।’
"খাবার নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও অপরাধবোধ কমে যায় ইনটিউটিভ ইটিং অনুসরণ করলে। শরীরের গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতা দূর হয় ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। রক্তচাপ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক মেজাজ ভালো রাখতেও এটি অত্যন্ত কার্যকর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. আফলাতুন আকতার জাহান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!