📌 প্রথম আলো ট্রাস্টের অনলাইন পরামর্শ সভায় শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ সন্তানের আচরণ ও বন্ধু নির্বাচনের গুরুত্ব ও অভিভাবকদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১৮২তম সভায় তিনি বন্ধু নির্বাচন ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্কে গভীর আলোকপাত করেন
প্রথম আলো ট্রাস্টের অনলাইন পরামর্শ সভায় শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ সন্তানের আচরণ ও বন্ধু নির্বাচনের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কারওয়ান বাজারের প্রথম আলোর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৮২তম অনলাইন পরামর্শ সভায় তিনি অভিভাবকদের দায়িত্ব ও সন্তানের মানসিক বিকাশের বিষয়ে সাক্ষাৎকার দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের প্রধান উদ্বেগ হলো কৈশোরে সন্তানকে কীভাবে সঠিক পথে পরিচালনা করা যায়, বিশেষ করে বন্ধু নির্বাচন ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে।
- 📌 বন্ধু নির্বাচনে শিশুদেরকে অ্যাসার্টিভ বন্ধুদের সাথে মিশতে উৎসাহিত করা উচিত যারা নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু আক্রমণাত্মক বা খুব বেশি ভীরু না হয়।
- 📌 অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো সন্তানের বাইরের বৈচিত্র্যময় পৃথিবীকে চিনতে সাহায্য করা, অর্থাৎ ইনক্লুসিভনেস বা অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব গড়ে তোলা।
- 📌 মাদক বা খারাপ অভ্যাসের দিকে সন্তান ঝুঁকে পড়ার মূল কারণ হলো তার ভেতরে থাকা শূন্যতা বা অপূর্ণতা, যা বাইরের প্রভাবের কারণে পূরণের চেষ্টা করে।
- 📌 প্যারেন্টিংয়ের ধরন হিসেবে জেলিফিশ প্যারেন্টিং (সন্তানকে অতিরিক্ত ভয় দেখানো) এবং এলিফ্যান্ট প্যারেন্টিং (সঠিক গাইডলাইন দিয়ে সুরক্ষা প্রদান) উল্লেখ করেন ডা. হেলাল আহমেদ।
📰 বিস্তারিত
সন্তানের ভবিষ্যৎ ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে প্রথম আলো ট্রাস্টের ১৮২তম অনলাইন পরামর্শ সভায় শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ বলেন, কৈশোরে সন্তান ও অভিভাবক উভয়েরই সবচেয়ে কঠিন সময় শুরু হয়। তিনি বলেন, “মানুষের মন একটি প্রদীপের মতো, যা সন্তান ও বাবা-মা উভয়ের মাঝেই আলো ছড়ায়। সন্তানকে কীভাবে আগলে রাখা যায়, কীভাবে তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়, এটিই বাবা-মায়েদের প্রধান চিন্তা। কারণ, সন্তানদের ভালো থাকার ওপরেই পুরো দেশের ভালো থাকা নির্ভর করে।”
বন্ধু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি শিশুরই নিজস্ব ইতিবাচক দিক থাকে। আমরা সহজেই কারো বন্ধুকে খারাপ বলে চিহ্নিত করে ফেলি, কিন্তু এটা করা উচিত নয়। বরং তাদের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো দূর করতে সাহায্য করা উচিত। সন্তানদের এমন বন্ধু দরকার যারা অ্যাসার্টিভ, অর্থাৎ নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু আক্রমণাত্মক না হয়।”
অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ মাদক বা খারাপ অভ্যাসের দিকে সন্তান ঝুঁকে পড়ার বিষয়ে বলেন, “বন্ধুই একা কাউকে জোর করে মাদকের দিকে নিয়ে যেতে পারে না। সন্তানের ভেতরে যদি কোনো শূন্যতা থাকে, তবেই সে বাইরে সেই শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করে। আমাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ডিমান্ড রিডাকশন। সন্তানের নিজের ভেতরের নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস এতটাই দৃঢ় হবে যে সে নিজে থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং অন্যদেরও বারণ করবে।”
প্যারেন্টিংয়ের ধরন নিয়ে তিনি বলেন, “প্যারেন্টিং মূলত চার ধরনের হয়ে থাকে। জেলিফিশ প্যারেন্টিং হলো সন্তানদের অতিরিক্ত ভয় দেখানো, যেখানে তারা কোনো বিষয়ে ‘না’ বলতে পারেন না। অন্যদিকে এলিফ্যান্ট প্যারেন্টিং হলো সন্তানকে পরম স্নেহে সুরক্ষা দেওয়া এবং সঠিক গাইডলাইন প্রদান করা। অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, সন্তানের সাথে সম্পর্কটা হতে হবে স্বচ্ছ ও গভীর, কিন্তু কোনো অহেতুক ভয় থাকবে না।”
"সন্তানকে বড় করা একটি নদীর মতো। নদী যেমন ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে চলে, তেমনি সন্তানকেও সঠিক নিয়মে ড্রেজিং বা গাইড করতে হবে, যেন সে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রথম আলোর কার্যালয়, কারওয়ান বাজার, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ (শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮২তম অনলাইন পরামর্শ সভা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!