📌 দক্ষিণাঞ্চলের তিন জেলায় ইলিশ উৎপাদন হ্রাসের কারণ অনুসন্ধানে চার মাসব্যাপী সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। গত চার বছরে ইলিশ আহরণ কমেছে দেড় লাখ টনের বেশি
দক্ষিণাঞ্চলের তিন জেলায় ইলিশ উৎপাদন বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে চার মাসব্যাপী সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। গত চার বছরে ইলিশ আহরণ কমেছে দেড় লাখ টনের বেশি। সমীক্ষা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মৎস্যবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. নিয়ামুল নাসের।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলায় চার মাসব্যাপী সমীক্ষা শুরু হয়েছে
- 📌 গত চার বছরে ইলিশ আহরণ কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪৬ টন
- 📌 ইলিশ উৎপাদন কমেছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের পর থেকে প্রতিবছর
- 📌 সমীক্ষা দল জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে করণীয় খুঁজবে
- 📌 সমীক্ষা দলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণাঞ্চলের তিন জেলায় ইলিশ উৎপাদন বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে চার মাসব্যাপী সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরকে ইলিশের ভরা মৌসুম হিসেবে ধরা হলেও এবার জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে ইলিশ আহরণ কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪৬ টন।
সমীক্ষা দলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগটির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. নিয়ামুল নাসের। তিনি জানান, সমীক্ষার মাধ্যমে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধির উপায় খুঁজে বের করা হবে। এছাড়া নদীতে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র পরিদর্শন করা হবে।
সমীক্ষা দলের সদস্য মৎস্য বিশেষজ্ঞ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই সমীক্ষার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের উপায় খুঁজে বের করা হবে। সমীক্ষা দল দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা, জেলে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলবে।’
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইলিশ উৎপাদন তিন অর্থবছর ধরে কমছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৩ টন উৎপাদনের পর থেকে প্রতি বছর কমতে শুরু করে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৪ টনে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৩ টনে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও কমে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৭ টনে নেমে আসে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দুই মাসেও ইলিশ আহরণের চিত্র করুণ। বরিশাল পোর্ট রোড মোকামে দৈনিক যেখানে হাজার মণ ইলিশ সরবরাহ হতো, সেখানে গত শুক্রবার সরবরাহ ছিল মাত্র ৬০ মণ। ইলিশের অভাবে মাছ ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন বলে জানান মোকামের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন।
‘বর্ষা হলো, তবু নদীতে ইলিশ মিলছে না। শুক্রবার প্রতি কেজি বড় ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৭৫০ টাকা দরে। জাটকা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩৫০ টাকা কেজি এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০০০ টাকা দরে।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূলীয় অঞ্চল অধ্যয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান হাফিজ আশরাফুল হক ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে নদীগুলোর মৃতপ্রায় অবস্থাকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, ইলিশ স্রোতের মাছ হলেও নদীগুলোর মৃতপ্রায় অবস্থার কারণে ইলিশের আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে এবং অপরিণত অবস্থায় ডিম চলে আসছে। ফলে ইলিশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান জানান, ‘মেঘনা, কালাবদর, ইলিশা, কীর্তনখোলা নদীতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। ইলিশের এই সংকট কাটিয়ে ওঠার উপায় খুঁজতে সমীক্ষা দল কাজ করবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মো. নিয়ামুল নাসের, আতিকুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪৬ টন, ৯ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!