📌 আজিমপুর সরকারি কলোনি থেকে হঠাৎ ভাড়াটে শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীরা ভাড়াটে বিদায়ের পরিদর্শন শুরু করেছে, যা শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বাধা দিচ্ছে
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনি থেকে হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ভাড়াটে বিদায়ের পরিদর্শন শুরু হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জীবনকে বিপর্যস্ত করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদেরকে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, যা তাদের ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বাধা দিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ অক্টোবর থেকে আজিমপুর সরকারি কলোনির শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।
- 📌 ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাসায় থাকতে পারলে বাড়িওয়ালারা তাদেরকে বাসা ছাড়তে বাধ্য করছেন।
- 📌 ৩১ অক্টোবরের পর কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকলে বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 ১১ টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাদের আসবাবপত্র নিয়ে বাসা ছাড়ছেন, কিন্তু নতুন বাসা পেতে সমস্যা হচ্ছে।
- 📌 হাজারাধিক শিক্ষার্থী এই কলোনিতে সাবলেট থাকতেন, তাদের মধ্যে অনেকেরই নতুন বাসা পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
- 📌 ২৬ অক্টোবর ঢাকায় ফিরে এসে শিক্ষার্থীরা বাসায় একদিনও থাকতে পারেননি।
📰 বিস্তারিত
আজিমপুর সরকারি কলোনির (জোন-বি) একটি ছাত্রী বলেছেন, ‘হঠাৎ ২২ অক্টোবর বাড়িওয়ালা বাসা ছাড়তে নোটিশ দেন। আমি তখন দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। ২৬ তারিখে ঢাকায় ফিরে আর একদিনও বাসায় থাকতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, যেদিন যেখানে পেরেছি, থেকেছি। বাড়িওয়ালার কড়া নির্দেশ, ৩১ তারিখের মধ্যে জিনিসপত্র নিয়ে বাসা ছাড়তে হবে।’
এই কলোনিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স এবং ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাবলেট থাকতেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সংখ্যা হাজারের বেশি হতে পারে। তারা সরকারি কলোনিতে থাকতে নিরাপদ বোধ করতেন। কিন্তু বাড়িওয়ালারা তাদেরকে বাসা ছাড়তে বাধ্য করছেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছে, ৩১ অক্টোবরের পরও কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীর বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
আজিমপুর কলোনির ২২ নম্বর ভবনের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো একটি রুম ভাড়া দিয়েছিলেন। এ রকম অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু ইতিমধ্যে সবাইকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো ভাড়াটে নেই।’
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আজিমপুর ও পলাশীতে সরকারি কলোনি থেকে কয়েক দিনে শত শত শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য পেশার ভাড়াটে বাসা ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু অনেকেই নতুন বাসা পাননি। কারণ, নতুন বাসা পেতে অন্তত এক মাস আগে খোঁজা শুরু করতে হয়। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের একটি ছাত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন রাত ১১-১২টা পর্যন্ত বাসা খুঁজেছি। তারপরও পাইনি।’
"আগামী ডিসেম্বরে আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা। এ পরিস্থিতিতে কীভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেব, আমি জানি না। এই ট্রমা কাটাতেই অন্তত এক মাস লাগবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আজিমপুর সরকারি কলোনি (জোন-বি), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থীরা, মাহবুব আলম (২২ নম্বর ভবনের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ অক্টোবর, ২৬ অক্টোবর, ৩১ অক্টোবর, ১১ টা, হাজারাধিক শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!