📌 হাইকোর্ট দেওয়ানি কার্যবিধির বিধি লঙ্ঘন করে দেওয়া সম্পত্তি ক্রোকের আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দিয়েছে। ঢাকার অর্থ ঋণ আদালত ১৪৮ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ক্রোকের আদেশ দিয়েছিল, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় হাইকোর্ট রুল অ্যাবসিওলিউট ঘোষণা করে
হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দেওয়ানি কার্যবিধির বিধি লঙ্ঘন করে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেওয়া অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দিয়েছে। ঢাকার অর্থ ঋণ আদালতের একটি ক্রোকের আদেশের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দায়ের করে হাইকোর্টে মামলা নিয়ে আসা বিবাদীদের পক্ষে রায় দিয়েছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪৮ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে দেওয়া ক্রোকের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছে।
- 📌 দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৫ ও ৬ বিধি লঙ্ঘন করে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, যা আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের দায়ে বাতিল করা হয়েছে।
- 📌 বিবাদীকে জমানত দাখিল বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দেওয়া হলেও ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, যা হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
- 📌 আইনজীবী তাইসির হক রিট পিটিশন পরিচালনা করে বলেছিলেন, ট্রায়াল কোর্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে।
- 📌 ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী মারগুব কবি যুক্তি দিয়েছিলেন, বিবাদীরা ঋণ খেলাপি এবং তাদের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।
📰 বিস্তারিত
হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, ঢাকার অর্থ ঋণ আদালত নং-৫ তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ ৮ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে ১৪৮ কোটি ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১০ টাকার ঋণ খেলাপি মামলায় ক্রোকের আদেশ দিয়েছিল। তবে আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৫ ও ৬ বিধি অনুসরণ না করে এই আদেশ দিয়েছিল। বিবাদীদের একজন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
শুনানিতে আইনজীবী তাইসির হক যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, ট্রায়াল কোর্ট দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৫ বিধি অনুসরণ করেননি। তিনি বলেন, ক্রোকের আদেশ দেওয়ার পূর্বে বিবাদীকে সম্পত্তির মূল্য বা সমপরিমাণ জমানত দিতে বা জমানত দেওয়ার কারণ দর্শাতে আদালতকে নির্দেশ দেওয়া ছিল। কিন্তু ট্রায়াল কোর্ট এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আদেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী মারগুব কবি যুক্তি দেন যে, বিবাদীরা ঋণ খেলাপি এবং তাদের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, “আদালত প্রথমে বিবাদীকে সম্পত্তির মূল্য বা সমপরিমাণ জমানত দিতে অথবা কেন জমানত দেওয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেবেন। এই দুই বিকল্প পালনে ব্যর্থ হলেই কেবল আদালত ক্রোকের আদেশ দিতে পারেন।” আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক দেওয়ানি কার্যবিধির বিধিগুলো পর্যালোচনা না করেই ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন, যা আইনের দৃষ্টিতে টেকসই নয়।
"আদালত প্রথমে বিবাদীকে সম্পত্তির মূল্য বা সমপরিমাণ জমানত দিতে অথবা কেন জমানত দেওয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেবেন। এই দুই বিকল্প পালনে ব্যর্থ হলেই কেবল আদালত ক্রোকের আদেশ দিতে পারেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (অর্থ ঋণ আদালত নং-৫)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া, বিচারপতি রেজাউল করিম, আইনজীবী তাইসির হক, আইনজীবী মারগুব কবি, তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ ৮ জন বিবাদী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৮ কোটি ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১০ টাকা (ঋণ পরিমাণ), ৮ জন বিবাদী, দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৫ ও ৬ বিধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!