📌 সোনার চকচকে স্থায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন যুক্তরাষ্ট্রের তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের গবেষণা বলছে, সোনার পরমাণুর বিশেষ গঠনই এর স্থায়িত্বের মূল কারণ। এই আবিষ্কার শিল্পক্ষেত্রে সোনার নতুন ব্যবহারিক সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে
গয়না থেকে শুরু করে মুদ্রা পর্যন্ত মানুষের কাছে চিরকালই অমূল্য ধাতু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে সোনা। বছরের পর বছর ধরে এর চকচকে ভাব অটুট থাকায় বিজ্ঞানীদের মধ্যেও কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সোনার এই স্থায়িত্বের রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের গবেষণা বলছে, সোনার পরমাণুর বিশেষ গঠনই এর স্থায়িত্বের মূল কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোনার পরমাণু স্বাভাবিক অবস্থায় চারকোনা জ্যামিতিক গঠনে থাকে, যা অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটাতে সক্ষম
- 📌 কিন্তু কাটার পর সোনার পরমাণু স্বতঃস্ফূর্তভাবে ষড়ভুজাকার গঠনে পুনর্বিন্যস্ত হয়ে যায়
- 📌 এই পুনর্বিন্যাসের ফলে সোনার পৃষ্ঠদেশে অক্সিজেন ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়
- 📌 ফলে সোনা আর অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে না, যা এর স্থায়িত্বের মূল কারণ
- 📌 গবেষক ম্যাথু মন্টেমোর ও তাঁর দল ডিএফটি তত্ত্ব ব্যবহার করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন
📰 বিস্তারিত
গয়না তৈরিতে ব্যবহৃত অন্যান্য ধাতুর তুলনায় সোনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। রুপা কালো হয়ে যায়, তামা সবুজাভ বর্ণ ধারণ করে, আর লোহায় মরিচা পড়ে। কিন্তু সোনা বছরের পর বছর ধরে তার চকচকে ভাব ধরে রাখে। এই স্থায়িত্বের কারণ অনুসন্ধানে নেমেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ম্যাথু মন্টেমোর ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁদের গবেষণা বলছে, সোনার পরমাণুর বিশেষ গঠনই এর স্থায়িত্বের মূল কারণ।
সোনার টুকরো কাটার পর এর সদ্য উন্মুক্ত তলে থাকা পরমাণুগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ষড়ভুজাকার জ্যামিতিক গঠনে পুনর্বিন্যস্ত হয়ে যায়। এই অবস্থায় পরমাণুগুলো সর্বনিম্ন শক্তিস্তরে অবস্থান করে এবং অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করতে পারে না। বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, সোনার চারকোনা গঠন অক্সিজেনকে ভাঙতে সাহায্য করলেও, ষড়ভুজাকার গঠনে তা সম্ভব হয় না। ফলে সোনা রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকে।
গবেষকদের মতে, সোনার এই স্থায়িত্বই এর মূল্যবানত্বের প্রধান কারণ। তবে বিজ্ঞানীরা ভাবছেন, সোনার নিষ্ক্রিয়তাকে যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে তা শিল্পক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এই উদ্দেশ্যে তাঁরা সোনার পরমাণুর গঠন বিশ্লেষণে সুপার কম্পিউটারের সাহায্য নিয়েছেন। ডেনসিটি ফাংশনাল থিওরি (ডিএফটি) নামক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল সিমুলেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে তাঁরা সোনার পরমাণুর ইলেকট্রনের মিথস্ক্রিয়া বিশ্লেষণ করেছেন।
"সোনার স্থায়িত্বের রহস্য উদঘাটনে আমাদের গবেষণা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর ফলে শিল্পক্ষেত্রে সোনার নতুন ব্যবহারিক সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ম্যাথু মন্টেমোর, বিজ্ঞানী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!