📌 গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতের বানতারা পার্কে ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় বাংলাদেশের দাবি নিশ্চিত করতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা ডিএনএ প্রমাণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতের একটি পার্কে বিক্রি হওয়ার খবর সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ প্রোফাইল প্রয়োজন হলেও সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের কোনো রেকর্ড নেই। ফলে ভারতের পক্ষ থেকে প্রমাণ চাওয়ায় বাংলাদেশের দাবি জটিল হয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতের বানতারা পার্কে ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে
- 📌 সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় বাংলাদেশের দাবি নিশ্চিত করতে জটিলতা
- 📌 ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার বিমানবন্দরে জব্দ হওয়া লেমুর দুটি পরে সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছিল
- 📌 মামলায় মঞ্জু মিয়াসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে
- 📌 বন বিভাগের কর্মকর্তারা ডিএনএ প্রোফাইলিং-এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন
📰 বিস্তারিত
সিআইডির তদন্তে জানা গেছে, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতের বানতারা পার্কে বিক্রি করা হয়েছে। এই লেমুর দুটি বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়ার প্রমাণ নিশ্চিত করতে ভারতের পক্ষ থেকে ডিএনএ প্রোফাইল চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের কোনো রেকর্ড নেই। ফলে বাংলাদেশের দাবি নিশ্চিত করতে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী জানান, বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ফরেনসিক ল্যাবের মাধ্যমে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা সম্ভব। তিনি ডিএফওকে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন।
তদন্তে জানা গেছে, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা তিনটি লেমুরের মধ্যে দুটি ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দ করা হয়েছিল। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ও ঢাকা কাস্টমস হাউস চোরাচালানের সময় প্রাণীগুলো জব্দ করে। পরে বন বিভাগের নির্দেশে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। সাফারি পার্কে আনার পর লেমুরগুলো থেকে ছানাও জন্ম নেয়। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি লেমুর মারা যায়। গত বছরের নভেম্বর মাসে পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরি হয়। এই ঘটনায় মামলা করা হয় এবং মঞ্জু মিয়াসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বলেন, ‘সব প্রাণীর না হলেও মূল্যবান প্রাণীদের ডিএনএ প্রোফাইলিং করলে ভালো হতো। সাফারি পার্কের লেমুর মূল্যবান প্রাণী। এদের ডিএনএ প্রোফাইল থাকলে আজ সহজেই ক্লেইমটি এস্টাবলিশ করা যেত।’
"বন্য প্রাণী চোরাচালান ও পাচারের ঘটনা শনাক্ত এবং পাচার হওয়া প্রাণী দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর সাফারি পার্ক, ঢাকা, ভারতের বানতারা পার্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, মনিরুল এইচ খান, মঞ্জু মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ (লেমুর), ৪৮ (লাখ রুপি), ৬ (আগস্ট), ২৫ (ফেব্রুয়ারি), ৬ (গ্রেপ্তার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!