📌 কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দের দাবি করা হলেও থানায় দায়ের করা মামলায় মাত্র তিন লাখ টাকার উল্লেখ পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় উপস্থিত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা জানান, জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য দুই কোটি টাকা হলেও মামলার এজাহারে তা তিন লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গড়বাড়িয়া গ্রামে অবস্থিত একটি গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দের দাবি করা হলেও থানায় দায়ের করা মামলায় মাত্র তিন লাখ টাকার উল্লেখ পাওয়া গেছে। অভিযানের সময় উপস্থিত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা জানান, জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য দুই কোটি টাকা হলেও মামলার এজাহারে তা তিন লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অভিযানে দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দের দাবি করা হলেও মামলায় তিন লাখ টাকার উল্লেখ
- 📌 অভিযান পরিচালনা করেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ
- 📌 অভিযানে ডার্বি, নেভি ও রয়েল ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ
- 📌 মামলায় নয়জনকে নাম উল্লেখ করে আরও দশ থেকে বারোজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে
- 📌 অভিযানের সময় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন
📰 বিস্তারিত
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের গরুর খামারের ভেতরে থাকা একটি গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ। অভিযানে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান শেষে প্রদীপ কুমার দাশ জানান, গোডাউন থেকে ডার্বি, নেভি ও রয়েল ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট এবং সিগারেট তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, জব্দ করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। তবে ওই রাতেই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর কুষ্টিয়ার লিগ্যাল অফিসার কাজী মর্তুজা রেজা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।
মামলায় নয়জনকে নাম উল্লেখ করে আরও দশ থেকে বারোজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। দৌলতপুর থানা পুলিশ জানায়, মামলার এজাহারে জব্দ তালিকায় ২৫ হাজার শলাকা সিগারেট ও ২৫ বস্তা সিগারেট তৈরির তামাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা।
এতে অভিযানের সময় জব্দের কথা বলা প্রায় ২০ লাখ শলাকা সিগারেটের সঙ্গে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ২৫ হাজার শলাকার বড় ধরনের পার্থক্য দেখা দিয়েছে। একইভাবে অভিযানে জব্দ করা সিগারেট তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
"দুই কোটি টাকার মালামাল কীভাবে মামলায় তিন লাখ টাকায় নেমে এল, বিষয়টি মামলার বাদীই ভালো বলতে পারবেন। অভিযানের পর বাদীপক্ষের এমন কর্মকাণ্ড আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বাদীপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।"
অভিযানের সময় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই জব্দ করা মালামালের পরিমাণ ও আনুমানিক মূল্য জানানো হয়েছিল বলে জানান প্রদীপ কুমার দাশ।
মামলার বাদী কাজী মর্তুজা রেজা দাবি করেন, গোডাউন থেকে যে পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়েছে, সেটিই এজাহারে উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, বাদীর দেওয়া জব্দ করা মালামালের বিবরণের ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জানান, কারখানায় নকল সিগারেট তৈরির যে মেশিন রয়েছে, শুধু সেটির দামই প্রায় দুই কোটি টাকা। মেশিনটি তালাবদ্ধ করে রাখা হলেও সেটি জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।
গোডাউনের মালিক ও মামলার প্রধান আসামি হাবিব মাস্টারের দাবি, তিনি জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় গোডাউনটি দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, এর আগেও র্যাব ও কাস্টমসের অভিযানে গোডাউনটি সিলগালা করা হয়েছিল। পরে সেটি আবার চালু করা হয়।
এর আগে গত ৯ মে র্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই স্থানে অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন ও প্রায় এক লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। পরে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিলগালা করার কিছুদিন পরই কারখানাটি আবার চালু করা হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দৌলতপুর উপজেলা, কুষ্টিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রদীপ কুমার দাশ, কাজী মর্তুজা রেজা, হাবিব মাস্টারের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ কোটি, ৩ লাখ, ২০ লাখ, ৯ জন, ১০ থেকে ১২ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!