📌 কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয়রা থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে
কুমিল্লার দেবিদ্বারে আলোচিত ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়দের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ গেট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দেবিদ্বার থানার সামনে অবস্থান নেয়। পরে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে প্রতিবাদ সভা শেষ হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডকে বর্ণনা করা হয়েছে বর্বরোচিত ও নৃশংস ঘটনা হিসেবে
- 📌 হত্যাকাণ্ডে গয়না ও টাকার লোভে বাসার ভাড়াটিয়া সেজে লাইলী আক্তারসহ সহযোগীরা জড়িত বলে অভিযোগ
- 📌 মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ১৪টি পলিব্যাগে ভরে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়
- 📌 হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা
- 📌 নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া সরকারের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান
- 📌 দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, আসামি লাইলী আক্তারকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত চলছে
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দেবিদ্বার থানার সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়। পরে মিছিলটি স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা দেবিদ্বারের ইতিহাসে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডকে একটি বর্বরোচিত ও নৃশংস ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের অভিযোগ, গয়না ও টাকার লোভে বাসার ভাড়াটিয়া সেজে লাইলী আক্তার ও তাঁর সহযোগীরা ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে ১৪টি পলিব্যাগে ভরে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পায় না। তাঁদের দাবি, ২০২১ সালে সাত বছরের শিশু ফাহিমা হত্যার ঘটনায় লাইলী আক্তারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও কয়েক বছরের মধ্যে তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন।
"আমি সরকারের কাছে আমার স্ত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি চাই। যেন ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।"
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন নিহত ব্যক্তির দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তার, কাজী নাসির, সিয়াম আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম, আলী আরশাদ বাবু ও নাজমুল ইসলামসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় গত ৭ আগস্ট রাতে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকেলে ওই এলাকার মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের খণ্ডিত অংশের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ফরিদা হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশের একাধিক দল তদন্তে কাজ করছে। আসামি লাইলী আক্তারকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে স্বর্ণালংকার, কিছু টাকা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। লাইলী আক্তার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দেবিদ্বার, কুমিল্লা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরিদা ইয়াসমিন, লাইলী আক্তার, মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, মনিরুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ (টার), ১৪ (টি), ৭ (আগস্ট), ৮ (আগস্ট), ১৬৪ (ধারা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!