📌 উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সরকারের ৫৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যর্থ। চার বছরের মাথায় ২২০টি ভবনের অধিকাংশই হয়ে গেছে অকেজো। আইএমইডির প্রতিবেদনেও প্রকল্পের ব্যর্থতার চিত্র উঠে এসেছে
উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় নির্মিত সরকারের বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চার বছরের ব্যবধানে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। ৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২২০টি ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরা, ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়া এবং দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৯৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ হলেও স্থায়িত্ব ও ব্যবস্থাপনার অভাব প্রকল্পটিকে ব্যর্থ করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২২০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র চার বছরের মাথায় প্রায় অকেজো
- 📌 দেয়ালে ফাটল, ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়া এবং দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা প্রকট
- 📌 প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৯৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ
- 📌 আইএমইডির প্রতিবেদনে প্রকল্পের ব্যর্থতার চিত্র উঠে এসেছে
- 📌 প্রকল্পের সময়মতো শেষ না হওয়ায় ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় ৫৪৮ কোটি টাকা
📰 বিস্তারিত
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালে। কিন্তু সময়মতো শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৩৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে ৫৪৮ কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৯৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ হলেও বাস্তবে ভবনগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আইডিয়াল মহিলা কলেজের আশ্রয়কেন্দ্রের তৃতীয় তলার ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ছে। একইভাবে কক্সবাজারের পূর্ব ভেওলার জয়নাল আবেদীন মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার আশ্রয়কেন্দ্রের ছয়টি ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে এবং চারটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুখদাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেছে এবং পানির ট্যাংকের সংযোগ নেই।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) করা প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে প্রকল্পের ব্যর্থতার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
"প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে ব্যত্যয় হয়েছে। বছরের পর বছর এ ধরনের প্রকল্পে অনিয়ম হলেও জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে না। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হলে অনিয়ম কমতে পারে।" — মোস্তাফিজুর রহমান, বিশেষ ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উপকূলীয় এলাকা (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কক্সবাজার)
- 👥 ব্যক্তি: মোস্তাফিজুর রহমান (সিপিডি বিশেষ ফেলো)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪৮ কোটি টাকা, ২২০টি ভবন, ৯৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!