📌 ময়মনসিংহে কাস্টমস কর্মী আবু রায়হান তালুকদারকে হত্যা করে তাঁর লাশ ১৫ টুকরায় বিভক্ত করে ডোবায় ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দুই আসামির স্বীকারোক্তি আদালতে গ্রহণ করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য ছিল টাকা আত্মসাৎ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মী আবু রায়হান তালুকদার হত্যার ঘটনায় দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে গ্রহণ করা হয়েছে। রাজু মির্জা নামের তাঁরই কেয়ারটেকার হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, টাকা আত্মসাৎ করতে গিয়ে তিনি আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যা করেন। পরে তাঁর সহযোগী সোহেল মির্জাকে ডেকে এনে লাশ ১৫ টুকরো করে ডোবায় ফেলে দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হত্যার শিকার আবু রায়হান তালুকদার ছিলেন ঢাকার কমলাপুর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী
- 📌 আসামি রাজু মির্জা হত্যার দায় স্বীকার করে জানান, তিনি দুধের সঙ্গে ২০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আবু রায়হানকে খাইয়েছিলেন
- 📌 রাজু মির্জা লোহার রড দিয়ে আবু রায়হানকে হত্যা করেন এবং তাঁর আইফোন ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন
- 📌 হত্যাকাণ্ডের পর রাজু মির্জা ও সোহেল মির্জা মিলে লাশকে ১৫ টুকরো করে তিনটি ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেন
- 📌 দুই আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল টাকা আত্মসাৎ
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামে আবু রায়হান তালুকদারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজু মির্জা ও সোহেল মির্জা নামের দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে গ্রহণ করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেনের আদালতে তাঁদের জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
রাজু মির্জা জানান, তিনি চার বছর ধরে আবু রায়হানের পরিবারের দেখাশোনা করতেন। দীর্ঘদিন একত্রে থাকার সুবাদে পরিবারের আর্থিক লেনদেন ও মূল্যবান সামগ্রীর তথ্য জানতেন। টাকার লোভে তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ২০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়েছিলেন। ওষুধ খাওয়ার পর আবু রায়হান অচেতন হয়ে পড়লে রাজু লোহার রড দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন।
রাজু মির্জা আরও জানান, হত্যার পর তিনি তাঁর সহযোগী সোহেল মির্জাকে ডেকে আনেন। দুজনে মিলে আবু রায়হানের লাশকে ঘরেই চাপাতি দিয়ে ১৫ টুকরো করেন। পরে তাঁরা লাশ তিনটি ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবার ভেতর ফেলে দেন। হত্যার পর তাঁরা ঘরের মেঝে ও বাথরুম পরিষ্কার করতে ডিটারজেন্ট, হ্যান্ডওয়াশ ও হারপিক ব্যবহার করেন।
"টাকার লোভে আমি একাই হত্যা করেছি। লাশ গুম করতে আমার বন্ধু সোহেল মির্জা আমাকে সহযোগিতা করেছে। হত্যার উদ্দেশ্য ছিল নিহত ব্যক্তির টাকা আত্মসাৎ।"
আবু রায়হান তালুকদার ছিলেন ঢাকার কমলাপুর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত। তিনি ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। ঘটনার পর তাঁর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। রাজু মির্জা তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু রায়হান তালুকদার, রাজু মির্জা, সোহেল মির্জা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: হত্যাকারী রাজু মির্জার বয়স ১৯ বছর, হত্যার তারিখ ২৪ জুলাই, হত্যার শিকার আবু রায়হানের বয়স ৪০ বছর, লাশ টুকরো করা হয়েছে ১৫টি, ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে ২০টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!