📌 চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ হাজার ঘরবাড়ি। অবৈধ মাছ চাষের বাঁধ ও অকার্যকর স্লুইসগেট পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। স্থানীয় অবৈধ বাঁধ ও অকার্যকর স্লুইসগেট পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা আট দিন বৃষ্টি হয়।
- 📌 চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়।
- 📌 বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মারা যান ৪১ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৪ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি।
- 📌 বাঁশখালীর সোনাইমুড়ি খালে মাছ চাষের জন্য ইটের দেয়াল তুলে পানিপ্রবাহ সংকুচিত করা হয়েছিল।
- 📌 ২০১৭ সালে আইডব্লিউএম-এর জরিপে বাঁশখালীতে ৮৯টি স্লুইসগেট ও ১৫৭টি অবৈধ প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা হয়।
📰 বিস্তারিত
গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা আট দিন বৃষ্টি হয়। চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এবং কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকা।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মারা যান ৪১ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৪ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। বাঁশখালীর কাঁথারিয়া ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের (৬৫) জানান, তাঁর ঘরের দেয়ালে এখনো বন্যার চিহ্ন রয়ে গেছে। ধান ও চাল নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনাইমুড়ি খালে মাছ চাষের জন্য ইটের দেয়াল তুলে পানিপ্রবাহ সংকুচিত করা হয়েছিল। ফলে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক পথে নদী বা সাগরে নামতে পারেনি।
২০১৭ সালে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে বাঁশখালীতে পাউবোর ৮৯টি স্লুইসগেট শনাক্ত করে। একই সঙ্গে খাল, বিল ও জলাশয়ে পানি আটকে রাখতে অন্তত ১৫৭টি অবৈধ প্রতিবন্ধকতার অস্তিত্বও চিহ্নিত করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবেশকর্মীরা জানান, অবৈধ বাঁধ ও অকার্যকর স্লুইসগেটের কারণে এবারের বন্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
"পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক পথে নদী বা সাগরে নামতে পারেনি। দিনের পর দিন আটকে থেকেছে জনপদে। কোথাও ঘরবাড়ি ডুবেছে, কোথাও ভেঙে পড়েছে মাটির ঘর। ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে কয়েক গুণ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বাঁশখালী, চকরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবুল খায়ের (৬৫), কৃষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪১ জন মৃত্যু, ১৪ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!