📌 চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হচ্ছে। নানা রঙের ফানুস ওড়ানোর মাধ্যমে উৎসবের আকাশ উড়ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
চট্টগ্রামের আকাশে রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নানা রঙের ফানুসের নাচ দেখতে পাওয়া যায়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের মধ্য দিয়ে দিনটি বিশেষভাবে সজ্জিত হয়েছে। বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, শীল গ্রহণ ও প্রদীপপূজা পালনের মাধ্যমে এই পবিত্র দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দিরের চারপাশে লোকেলোকারণ্য, ফানুস ওড়ানোর দৃশ্য সাজিয়েছে আকাশ
- 📌 কাতালগঞ্জ নবপতি বিহার, আগ্রাবাদ শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার, দেবপাহাড় পূর্ণাচর আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন মন্দিরে উৎসবের আয়োজন
- 📌 মুরাদপুরের বাসিন্দা সজিব বড়ুয়া সারাবাংলাকে বলেছেন, প্রতি বছর পরিবারসহ নন্দনকানন মন্দিরে আসেন এবং এই পবিত্র দিনে ভগবান বুদ্ধের আশীর্বাদ চান
- 📌 চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম ঐতিহ্যগতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন থাকতে বলেছেন
- 📌 প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বক্তব্য দিয়েছেন
- 📌 চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী উৎসবের উদ্বোধন করেছেন
- 📌 বৌদ্ধ মন্দিরের চারপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করছেন। এই দিনে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, শীল গ্রহণ ও প্রদীপপূজা পালনের পাশাপাশি নানা রঙের ফানুস ওড়ানোর মাধ্যমে উৎসবের আকাশ উড়ছে। চট্টগ্রামের চেরাগী মোড় থেকে শুরু করে পুলিশ প্লাজা এবং লাভলেইন মোড় পর্যন্ত মানুষের ভিড় লেগেছে। নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে বিশেষভাবে ফানুস ওড়ানোর দৃশ্য সাজিয়েছে আকাশ।
নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দির ছাড়াও কাতালগঞ্জ নবপতি বিহার, আগ্রাবাদ শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার, দেবপাহাড় পূর্ণাচর আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার এবং মোমিন রোডে সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন মন্দিরে ধর্মীয় সমাবেশ এবং ফানুস উড়িয়ে এই উৎসব পালন করা হচ্ছে। প্রবারণা পূর্ণিমা ঘিরে মন্দিরের চারপাশে বিভিন্ন সামগ্রীর মেলা বসানো হয়েছে।
মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা সজিব বড়ুয়া সারাবাংলাকে বলেন, “প্রতি বছর প্রবারণা পূর্ণিমায় পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দিরে আসি। এবারও এসেছি। এই পবিত্র দিনে ভগবান বুদ্ধ যেন সকলের মনের ইচ্ছা পূর্ণ করেন।”
"চট্টগ্রাম ঐতিহ্যগতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এ নগরে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করবে। কোনো অপশক্তি যেন নগরীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।"
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন রোববার বিকেলে সম্মিলিত প্রবারণা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে চট্টগ্রাম নগরীর নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গনে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব-২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি শান্তিপূর্ণ নগরী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দির, কাতালগঞ্জ নবপতি বিহার, আগ্রাবাদ শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার, দেবপাহাড় পূর্ণাচর আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার, মোমিন রোড সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শাহাদাত হোসেন (চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক), সজিব বড়ুয়া (মুরাদপুরের বাসিন্দা), হাসান মো. শওকত আলী (চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ অক্টোবর (উৎসবের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!